“হাতে অস্ত্র তুলে দিতে হবে”-ফের বিরাট দাবি বিরোধীনেতা শুভেন্দু অধিকারীর

রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে হাজার হাজার হিন্দুর পলায়নের পর মুর্শিদাবাদে প্রতিবাদে নামলেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ‘বাঙালি হিন্দুদের বাঁচাও’ স্লোগান তুলে শনিবার আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশ থেকে তিনি রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো—স্থানীয় হিন্দুদের আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং গ্রাম রক্ষা কমিটি গঠন করা।

গত ১১ এপ্রিল থেকে মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের তরফে ইতিমধ্যেই হিংসাকবলিত জেলাগুলিতে স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি উঠেছে।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দাবির সমর্থনে বলেন, “আমার মতে, একটি গ্রাম রক্ষা কমিটি গঠন করা উচিত, তারপরে সাধারণ মানুষকে তাদের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স থাকা অস্ত্র সরবরাহ করা উচিত কারণ এটি বাংলাদেশের সীমান্তে।”

রাজ্য সরকার এবং পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বিরোধী দলনেতা বলেন, কেন্দ্রের ওয়াকফ বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নেওয়ার পর থেকে দুষ্কৃতীরা ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে। এর ফলেই বহু হিন্দু পরিবার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, “যতক্ষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার পুলিশ বাংলার বিষয়গুলি পরিচালনা করবে, ততক্ষণ হিন্দুদের তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হবে।” এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থাগুলির হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি বলেন, হিংসার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বাংলার নির্বাচনী হিংসার পুরনো প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচনের সময় প্রায়শই এই ধরনের ঘটনা ঘটে যা ভোট প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা। মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় সাম্প্রতিক হিংসার পর রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি আরও জোরালো হয়েছে। শুভেন্দু নিজেও এই দাবিকে সমর্থন করে বলেন, “আমার আরেকটি দাবি হল নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত, কারণ মুর্শিদাবাদে হিন্দুরা এখন ৫০ শতাংশেরও কম।”

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ এবং অন্যান্য সংঘাত-কবলিত এলাকা পরিদর্শনে রাজ্য সরকার তাঁকে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তাঁর আশা, “আমি বাস্তবতা জানি। তারা কেবল বিরোধীদলীয় নেতাকে মুর্শিদাবাদ সফরে যেতে বাধা দিচ্ছে, অন্য সকলকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। শীঘ্রই বিষয়টির শুনানি হবে।”

মুর্শিদাবাদের এই হিংসা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তীব্র উত্তেজনা ও বাকযুদ্ধ চলছে।