AI-নির্ভর নিজের ছবি বানাচ্ছেন মানে সাইবার হুমকিকে ডাকছেন, জেনেনিন কিভাবে?

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এআইনির্ভর ছবি তৈরির ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে শুরু করে তারকা, পেশাদার ক্রীড়া দল এবং সাধারণ ব্যবহারকারী — সকলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেদের পছন্দের রূপে ছবি তৈরি করছেন, বিশেষ করে চ্যাটজিপিটির মতো প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ‘বার্বি’ আদলের ছবি বানানোর হিড়িক দেখা গেছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যে, এটি ব্যবহারকারীদের সাইবার নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন্ড ব্যবহারকারীদের জন্য সম্ভাব্য সাইবার কেলেঙ্কারিকে আমন্ত্রণ জানানো থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং নৈতিকতা সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইরাল ট্রেন্ডে অংশ নেওয়া ব্যবহারকারীরা বেশিরভাগ সময়ই তাদের জীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে এমন ফিচারওয়ালা ছবি তৈরি করেন যেখানে তারা কোথায় থাকেন বা কোথায় কাজ করেন, তাদের পছন্দের কাজ কী এমন সব ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান এবং হ্যাকিং ও স্ক্যামে খুব সহজেই কাজে লাগাতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘প্যারামিটার সিকিউরিটি’-এর প্রধান নির্বাহী ডেভ ক্রোনিস্টার এই ঝুঁকি সম্পর্কে বলেছেন, “আপনি এই মুহূর্তে আপনার আগ্রহের তিন বা চারটি বিষয় অন্যদের দেখাচ্ছেন এবং তা বিশ্বের কাছে শেয়ারও করছেন। আর এ বিষয়টি আপনার জন্য এখন অনেক বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এখন কেউ চাইলেই আপনাকে টার্গেট করতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাইবার হামলাকারীদের জন্য একজন কর্মী ও ব্যক্তি হিসাবে আপনাকে টার্গেট করার সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং আজও সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায়।”
ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি ছাড়াও, এই এআই ছবি তৈরির ট্রেন্ড ডেটা প্রাইভেসি এবং নৈতিকতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে। ‘স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান-সেন্টারড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর প্রাইভেসি ও ডেটা পলিসি ফেলো জেনিফার কিং বলেছেন, ব্যবহারকারীদের ভাবা উচিত যে, তাদের এসব ছবি ভবিষ্যতে বিভিন্ন এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে কাজে লাগবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এসব একই টুল ক্রমাগত কর্পোরেট ও সামরিক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনেও প্রয়োগ হচ্ছে।
এদিকে, অন্যান্য বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবহারকারীদের এআইনির্ভর ছবিতে ট্রেডমার্কওয়ালা উপাদান অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। লন্ডন কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক জিনা নেফ এই ট্রেন্ডের সামগ্রিক ঝুঁকি সম্পর্কে একটি কড়া মন্তব্য করে বলেছেন, “চ্যাটজিপিটি বার্বি আমাদের প্রাইভেসি, আমাদের সংস্কৃতি ও আমাদের পৃথিবীর জন্য ত্রিমুখী হুমকি।”
বিশেষজ্ঞদের এই সতর্কবার্তাগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এআইনির্ভর ভাইরাল ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের অবশ্যই নিজেদের সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে সচেতন হতে হবে। বিনোদনের জন্য ছবি তৈরি করতে গিয়ে অজান্তেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন কিনা, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।