OMG! মিষ্টির দোকানের পচা রস দিয়ে তৈরি হচ্ছিল গুড়, উদ্ধার কয়েকশো টিন, গ্রেফতার মালিক

গোপন সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় তৈরির খবর পাওয়ার পর অবশেষে অভিযান চালাল পুলিশ ও খাদ্য দফতর। শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল নদিয়ার চাকদা থানার পুলিশ ও খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকদের যৌথ অভিযানে শিমুরালির সুতারগাছিতে একটি গুড় কারখানার পর্দাফাঁস হয়েছে। কারখানা থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়েকশো টিন ভেজাল গুড়, চিনি, সিরাপ এবং বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ। এই ঘটনায় কারখানার মালিক রাজেশ কুমার শাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল ওই এলাকায় ভেজাল গুড় তৈরি করে তা রাজ্য-সহ ভিনরাজ্যেও পাচার করা হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই শুক্রবার হানা দেয় পুলিশ ও খাদ্য দফতর। অভিযানে কারখানার ভেতরে ভেজাল গুড় তৈরির প্রমাণ মেলে। উদ্ধার হয় ২৪ টিন পচা রস, ২৭৯ টিন ভেজাল গুড় এবং ২৫০ গ্রাম রাসায়নিক দ্রব্য। খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকটি হল স্যাফোলাইট, যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অভিযানে রাজেশ কুমার শাহ নামে কারখানার মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় চাকদা থানার পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই কারখানায় আখের রসের পরিবর্তে মিষ্টির দোকানের পচা রস ব্যবহার করে গুড় তৈরি করা হত। এছাড়াও, গুড়ের রঙ ও স্বাদ বাড়ানোর জন্য মেশানো হত ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য। ধৃত রাজেশ কুমার শাহের বিরুদ্ধে খাদ্যে ভেজাল মেশানো ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভেজাল গুড় চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ভেজাল গুড় পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং কারখানাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। খাদ্য দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।