ছত্তীসগড়ে একসঙ্গে ২২ মাওবাদীর আত্মসমর্পণ, ৪০.৫ লক্ষ টাকা ছিল মাথার দাম

ছত্তীসগড়ে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। কোনও রকম রক্তপাত ছাড়াই একসঙ্গে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে ১২ জনের মাথার দাম ৪০.৫ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল।

ছত্তীসগড়ের সুকমা জেলায় এই আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটেছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে ৯ জন মহিলাও রয়েছেন। সুকমা জেলার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বান জানিয়েছেন, সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার আগ্রহ থেকেই এই মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, এই সাফল্যের পেছনে জেলা পুলিশ, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং সিআরপিএফ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হল পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি-র ডেপুটি কমান্ডার মুচাকি জোগা (৩৩) এবং তার স্ত্রী মুচাকি জোগি (২৮)। এই দম্পতির প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। এছাড়াও আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে কিকিড় দেব (৩০) এবং মনোজ ওরফে দুধি বুধরা (২৮), যারা উভয়েই মাওবাদীদের এলাকা কমিটির সদস্য এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। বাকি আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মাথার দাম ২ লক্ষ টাকা করে ধার্য ছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের ‘নিয়াদ নেল্লানার’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের ঘটনা ছত্তীসগড়ে নতুন নয়। এর আগেও সুকমা জেলায় ৭০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। বিজাপুর জেলা থেকেও বহু মাওবাদী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ বেছে নিয়েছে।

বিগত কয়েক মাসে ছত্তীসগড়ে একাধিক মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মাওবাদী প্রাণ হারিয়েছে। তবে আত্মসমর্পণের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। গত মাসেই বিজাপুরে ৫০ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করে, যাদের কয়েকজনের মাথার দাম কয়েক লক্ষ টাকা ছিল। তারা নিজেরাই অস্ত্র জমা দিয়ে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

তবে এই আত্মসমর্পণের কয়েক ঘণ্টা আগেই নিরাপত্তাবাহিনী সুকমা ও বিজাপুরে দুটি পৃথক এনকাউন্টারে ১৮ জন মাওবাদীকে নিকেশ করে, যাদের মধ্যে ১১ জন মহিলা ছিল। এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে ২২ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।