জালিয়ানওয়ালাবাগের অজানা কাহিনি ‘কেশরি ২’-তে, অক্ষয়ের সঙ্গে নজর কাড়লেন বাংলার সোহন

ইতিহাসের অনেক পাতা সাধারণের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়। জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডও তেমনই এক অধ্যায়, যা হয়তো রঘু পালত ও পুষ্পা পালতের লেখা ‘দ্য কেস দ্যাট শুক এম্পায়ার’ বইটি না থাকলে অনেকের কাছেই অজানা থাকত। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে করণ সিং ত্যাগী পরিচালিত ‘কেশরি চ্যাপ্টার ২’। এই ছবিতে সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অজানা দিকগুলি যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই ব্রিটিশরাজের বিরুদ্ধে আইনজীবী সি শঙ্করান নাইয়ারের দৃঢ় লড়াইও চিত্রিত হয়েছে।

এই ছবিতে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কোর্ট ড্রামার গুরুত্বপূর্ণ অংশে দেখা গিয়েছে বাংলার পরিচিত অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে ‘কেশরি ২’-তে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মুম্বই যাত্রা? কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? ইটিভি ভারতের সঙ্গে সেই গল্পই শেয়ার করলেন সোহন।

বাংলা থেকে মুম্বইয়ের জার্নি প্রসঙ্গে অভিনেতা সোহন বলেন, “বাংলায় একজন কাস্টিং ডিরেক্টর আছেন সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি প্রথম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ২০২২ সালের অক্টোবর মাস নাগাদ। তিনি আমাকে জানান মুম্বইয়ে বড় স্কেলে একটা সিনেমা বানানো হচ্ছে। তখনও আমি জানতাম না, কারা রয়েছেন ছবিতে, প্রযোজনা কে করছেন ইত্যাদি। আমাকে বলা হয় এক আইনজীবীর চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এরপরেই সুদীপ্তর মাধ্যমে রমণ নামে যিনি কাস্টিং ডিরেক্টর আছেন তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমাকে চিত্রনাট্য পাঠান। এরপর অনলাইনে তিন-চাররকমভাবে আমার অডিশন নেন। এরপর জানানো হয় পরিচালক করণ সিং ত্যাগী অনলাইনে কথা বলতে চাইছেন। করণ তখন আমাকে গল্পের প্রেক্ষাপট জানান। করণ নিজে হার্ভার্ড থেকে ল গ্র্যাজুয়েট করেছেন। তিনিই আমাকে জানান দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের চরিত্রে আমাকে অভিনয় করতে হবে। একটাই দৃশ্য কিন্তু সেটা গুরুত্বপূর্ণ। উনি অডিশন নেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে এই ছবির দৃশ্যের শুটিং করি।”

প্রসঙ্গত, ছবিতে প্রথমদিকে অক্ষয় কুমারকে দেখা গিয়েছে ব্রিটিশরাজের আইনজীবীর ভূমিকায়। আর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আইনজীবী তথা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের চরিত্রে দেখা যায় অভিনেতা সোহনকে। অক্ষয় কুমারের বিপরীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সোহন জানান, “অত্যন্ত ডিসিপ্লিনড অভিনেতা অক্ষয়। সময় মেনে শুটিং সেটে আসতেন। ভীষণ প্রফেশনাল তিনি। সকাল ১০টায় কলটাইম থাকলে তিনি ৯.৪০ মিনিটে ফ্লোরে চলে আসতেন। শুটের দিন উনি এসে আমার সঙ্গে পরিচয় করেন। হাত মেলান। খুব রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলেন। কথা বলার সময় স্যার ব্যবহার করেন। এটা মুম্বইয়ের সংস্কৃতি। আমি অত্যন্ত মুগ্ধ। আমি কলকাতাতে সিনিয়র অভিনেতা হতে পারি, কিন্তু ওখানে নতুন। সেই জায়গা থেকে অনেক সম্মান পেয়েছি। শুটের আগে অক্ষয় রিহার্সাল করে নিতেন। আমি ওনাকে ওনার শটের সময় কিউ দিয়েছি। খুব নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলেন সেটা বুঝেছি। এমন মানুষই থাকা উচিত।”

শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মুম্বইয়ে কাজের দক্ষতায় জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এবার বাংলা ধারাবাহিক ও থিয়েটার জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ সোহনও সেই তালিকায় নাম লেখালেন। মূলত, সোহন অভিনীত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ধারাবাহিকে প্রীতিরাম দাস (মাড়), ‘খেলাঘর’ ধারাবাহিকে বরুণ চট্টোপাধ্যায় এবং ‘কি করে বলব তোমায়’ ধারাবাহিকে আদিনাথ সেন। বর্তমানে ‘ফুলকি’ ধারাবাহিকে জেঠুমণির পল্লব রায়চৌধুরীর চরিত্রে দেখা যাচ্ছে সোহনকে। প্রায় ৭০টির বেশি ধারাবাহিকে কাজ করেছেন তিনি।

ধারাবাহিকের পাশাপাশি তিনি থিয়েটার জগতের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। সোহন বলেন, “আমি জন্ম থেকে থিয়েটার দলের সঙ্গে যুক্ত। আমার বাবার তৈরি নাট্য দল নট-রঙ্গ আমার থেকে চার মাসের বড়। বিগত ২৮ বছর ধরে দলটা আমি চালাচ্ছি। আমাদের প্রচুর প্রযোজনা দেশে-বিদেশে অভিনীত হয়েছে। ‘গুলবাজ:ম্যান অফ দ্য ম্যান’, ‘শুঁয়োপোকা’, ‘যদিদং’, ‘সধবার একাদশী’, ‘ছায়া পথের শেষে’ ইত্যাদি আমাদের প্রযোজনা সংস্থা থেকে মঞ্চস্থ হয়েছে।” প্রসঙ্গত, আগামী পরশু, অর্থাৎ রবিবার (২০/৪/২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় বেহালা শরৎ সদনে মঞ্চস্থ হবে নাট্যদল নট-রঙ্গ প্রযোজিত নাটক ‘আমি Weds আমি’। নাটকটি লিখেছেন সোহন এবং পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় চরিত্রেও অভিনয় করছেন সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়।