অনলাইনে পিডিএফ ফাইল কনভার্ট করা থেকে সাবধান, ম্যালওয়্যার হানছে স্মার্টফোন-কম্পিউটারে

স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে ডেডিকেটেড কনভার্টার সফটওয়্যার না থাকলেও অনলাইনে বিনামূল্যে পিডিএফ ফাইল কনভার্ট করার সুযোগ থাকায় অনেকেই এই ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন প্রয়োজনে পিডিএফ ফাইলকে ওয়ার্ড বা অন্যান্য ফরম্যাটে রূপান্তর করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। ব্যবহারকারীদের এই আগ্রহকেই কাজে লাগাচ্ছে হ্যাকাররা। সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডসেক সম্প্রতি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভুয়া পিডিএফ কনভার্টার ওয়েবসাইট তৈরি করে হ্যাকাররা নির্বিচারে ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছে।
ক্লাউডসেকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাইবার হামলার জন্য কুখ্যাত কনভার্টার ওয়েবসাইট পিডিএফক্যান্ডি ডটকম-এর নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে একাধিক ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করেছে হ্যাকাররা। এই ওয়েবসাইটগুলোর লোগো, ডিজাইন এবং ইন্টারফেস এতটাই নিখুঁতভাবে পিডিএফক্যান্ডি ডটকম-এর মতো করে তৈরি করা হয়েছে যে, বহু ব্যবহারকারী সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন এবং না বুঝে নিজেদের পিডিএফ ফাইল কনভার্ট করতে চাইছেন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, যখন কোনো ব্যবহারকারী ভুয়া ওয়েবসাইটগুলোতে পিডিএফ ফাইল আপলোড করেন, তখন সেখানে নকল ‘লোডিং’ অ্যানিমেশন দেখানো হয়। এর ফলে মনে হয় যেন ফাইলটি সত্যিই রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরপর একটি ক্যাপচা পূরণের ধাপ আসে, যা ওয়েবসাইটগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তোলে। এই ধাপগুলো অতিক্রম করার পরই ব্যবহারকারীদের একটি ‘পাওয়ারশেল’ কমান্ড দিতে বলা হয়। এই কমান্ডটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীর স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারযুক্ত ‘অ্যাডোবি ডট জিপ’ ফাইল ডাউনলোড হয়ে যায়।
ক্লাউডসেক জানিয়েছে, এই ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারটি একবার কোনো ডিভাইসে প্রবেশ করলে ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকা পাসওয়ার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ভুয়া এই ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যে অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলা হলেও, গত মাসে এই ধরনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ছয় হাজারের বেশিবার ভিজিট করা হয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট, প্রতারণার এই কৌশলটি এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন ব্যবহারকারী এর শিকার হচ্ছেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পরামর্শ, ফাইল রূপান্তরের জন্য কোনো অনলাইন পরিষেবা ব্যবহার করার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, সন্দেহজনক বা অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত ফাইল আপলোড করা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে হবে। কোনো ওয়েবসাইটে যদি কমান্ড চালানোর মতো অস্বাভাবিক কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহলে তা অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কেউ এই ম্যালওয়্যারের শিকার হন, তাহলে দ্রুত তাদের ডিভাইসের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস