ফের শিরোনামে মিরাট! সাপের কামড় নয়, ‘শ্বাসরোধ করে খুন যুবককে’, গ্রেফতার স্ত্রী ও প্রেমিক

বিগত কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের মিরাট ফের শিরোনামে উঠে এসেছিল এক রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল অমিত কাশ্যপ নামে এক ঘুমন্ত যুবকের দেহ। মৃতের পাশেই পাওয়া গিয়েছিল একটি বিষধর সাপ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল সাপের কামড়েই মৃত্যু হয়েছে যুবকের। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। জানা গিয়েছে, সাপের ছোবলে নয়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে অমিতকে। আর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন খোদ অমিতের স্ত্রী এবং তার প্রেমিক।
পুলিশ ইতিমধ্যেই খুনের দায়ে অভিযুক্ত স্ত্রী রবীতা এবং তার প্রেমিক অমরদ্বীপকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে রবীতা।
গত মঙ্গলবার মিরাটের নিজ বাড়ি থেকে অমিত কাশ্যপের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খাটের উপর নিথর দেহ পড়ে ছিল এবং পাশেই একটি সাপ দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় রটে যায় সাপের কামড়েই অমিতের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তড়িঘড়ি মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
Another H sherni at work.. #Meerut, UP : Amit Kashyap was found dead on his bed with a viper snake caught under his back that bit him 10 times out of frustration in Meerut 2 days ago. #Reality Amit’s wife Ravita along with her boyfriend Amardeep strangulated Amit to death and… pic.twitter.com/7WWMO7KGF6
— Saba Khan (@ItsKhan_Saba) April 17, 2025
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, অমিতের শরীরে সাপের কামড়ের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বরং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে এবং প্রথম থেকেই মৃতের স্ত্রী রবীতাকে সন্দেহের তালিকায় রাখে।
পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে রবীতা। সে জানায়, তার প্রেমিক অমরদ্বীপের সঙ্গে মিলেমিশে তারা অমিতকে খুন করেছে। ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে এবং পুলিশের চোখে ধুলো দিতে তারা একটি সাপের বন্দোবস্ত করেছিল। এক ওঝাঁর কাছ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে সাপটি কেনা হয়। অমিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার দেহের পাশে সাপটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে সকলের মনে হয় সাপের কামড়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রবীতা ও তার প্রেমিক অমরদ্বীপকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশি হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ শুনে স্তম্ভিত সকলে।