৭ বিঘা জমির ভুট্টা, ১ বিঘা জমির টমেটো! শেষ করে দিল বুনো হাতির দল: আতঙ্কে চাষিরা

ফালাকাটা ব্লকের পশ্চিম শালকুমার গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই বুনো হাতির হানায় ভেঙে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের জীবন। গতকাল রাতে আবারও তাণ্ডব চালিয়েছে হাতির দল, যা গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। প্রায় ১০-১৫টি হাতির একটি দল গতকাল রাতে গ্রামের কৃষিজমিতে হামলা চালিয়ে সাত বিঘা জমির ভুট্টা এবং এক বিঘা জমির টমেটো ক্ষেত তছনছ করে দেয়।

স্থানীয় কৃষক মেহেতাব হোসেন জানান, “হাতে সময় ছিল না কিছু করার। এক ঘণ্টারও কম সময়ে হাতির দল এসে আমার টমেটো ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। আর তারপর একে একে সব জায়গায় তাণ্ডব চালাতে থাকে। পুরো ক্ষেত তছনছ হয়ে গেছে।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “হাতির দলটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায়। আমাদের চোখের সামনে সমস্ত কিছু ভেঙে-চুরে দিলেও কিছুই করতে পারি না।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই হাতির দল প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যা নামলেই তাদের গ্রামে চলে আসে। কখনও তারা কৃষকের চাষের জমি নষ্ট করে, আবার কখনও ঘর-বাড়ি ভেঙে চলে যায়। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, “এভাবে হাতির পাল গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করলেই আমরা বাধা দিতে পারি না। একদম helpless হয়ে পড়ি।”

এই ঘটনার পর, জলদাপাড়া বন বিভাগের মাদারিহাট রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার শুভাশিস রায় জানিয়েছেন, “যে কৃষকের জমির ক্ষতি হয়েছে, তারা যদি আবেদন করেন, তাহলে সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”

তবে ক্ষতিপূরণের আশ্বাসের পরেও, গ্রামের মানুষের মধ্যে হাতির হামলার কারণে যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে কাটানোর কোনও উপায় এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, বন বিভাগ জানিয়েছে যে তারা এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে বিশেষ নজর রাখছে। পাশাপাশি, গ্রামবাসীদের জন্য কিছু সতর্কতা ব্যবস্থা এবং হাতির নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তবে, একের পর এক হাতির হানার কারণে কৃষকরা এখন কীভাবে তাদের জীবিকা টিকিয়ে রাখবেন, তা নিয়ে তারা গভীর চিন্তায় আছেন।

এদিকে, একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানিয়েছেন, তাদের জীবিকা চলে গেছে। জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁদের কাছে শুধু একটি জীবনযাপনই নয়, অনেক পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কিছু কৃষক সমস্যায় পড়েছেন, কারণ ক্ষতিপূরণও একমাত্র তাদের ক্ষতির পরিমাণে নির্ভর করবে।