“মুর্শিদাবাদে পরিকল্পিত হিংসা করা হয়েছে”-দাবি করলেন মমতা, প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর

মুর্শিদাবাদের অশান্ত পরিস্থিতি এবং ওয়াকফ আইন নিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের এনে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং এজেন্সি ব্যবহার করে হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ইদের পর একটি বৈঠক করার কথা আগেই হয়েছিল। ৭ এপ্রিল সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে পিছিয়ে ১৬ তারিখ করা হয়। এই বৈঠক আমি ডাকিনি। ইমামরা আমাকে ডেকেছেন। আমরা এসেছি।” এরপরই তিনি মুর্শিদাবাদের অশান্তি প্রসঙ্গে বলেন, “কিছু প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে গণ্ডগোল হয়েছে, সেটা মুর্শিদাবাদ আসন নয়, মালদার আসন। কংগ্রেসের জেতা আসন। জেতার সময় জিতবে। দাঙ্গা হলে রাস্তায় বেরবে না, এটা আশা করি না। জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে থাকতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “কোনও এজেন্সির মাধ্যমে ওখান থেকে (বাংলাদেশ) লোক নিয়ে এসে দাঙ্গা করা। বিএসএফ বর্ডার সামলায়। বিজেপির বাইরে থেকে লোক নিয়ে এল, উত্তর দিতে হবে। ভাগাভাগি করতে চাইছে কেন্দ্রের জুমলা সরকার।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “হোম মিনিস্টার কালীদাসের মতো ডাল ভাঙার চেষ্টা করছে। আপনি কোনও দিন প্রধানমন্ত্রী হবেন না, মোদী চলে যাওয়ার পর কী করবেন? সবচেয়ে দেশের ক্ষতি করেছেন আপনি। দয়াকরে লোকটাকে কন্ট্রোল করুন মোদীজি।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “পরিকল্পনা করে দাঙ্গা করা হয়েছে। এরজন্য পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী, এজেন্সি দিয়ে লোক নিয়ে এসে হামলার চক্রান্ত করা হয়েছে।” মুর্শিদাবাদের হিংসার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদের হিংসা সম্পূর্ণরূপে পরিকল্পিত ছিল।” তিনি কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “তারা এত তাড়াহুড়ো করে ওয়াকফ আইন পাস করল কেন? তারা কি বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানে না? কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বাইরে থেকে লোক ডেকে বাংলায় দাঙ্গা তৈরি করেনি? বিএসএফ কেন হিংসা বন্ধ করেনি? আমি মোদীজিকে অনুরোধ করছি অমিত শাহকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। অমিত শাহ আমাদের বিরুদ্ধে এজেন্সি ব্যবহার করছেন।”
কেন্দ্রের সমালোচনা করে মমতা বলেন, “যেহেতু বিএসএফ বাংলার সাথে ২২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষার জন্য মোতায়েন, তাই বাংলাদেশ থেকে বাংলায় দুষ্কৃতীদের অনুপ্রবেশের জন্য বিএসএফ দায়ী।” তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপি বহিরাগতদের ডেকে এনে হিংসা ঘটিয়েছে। ওয়াকফের ব্যাপারে জনগণকে উত্তেজিত করা হয়েছিল। মুর্শিদাবাদের হিংসা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। অনুপ্রবেশকারীদের কেন আসতে দেওয়া হল? আমি ইন্ডিয়া জোটকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। এর প্রভাব সকলের উপর পড়বে। আমরা শান্তি চাই।”