নববর্ষের সকালে কালী মন্দিরে ভক্তদের ঢল, নতুন খাতা আর মায়ের আশীর্বাদে শুরু হল ১৪৩২

আজ নববর্ষ। বৈশাখের প্রথম দিনে নতুন বছর ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে উৎসবে মেতে উঠেছে বাংলা। তবে এই আনন্দময় আবহের মধ্যেই ব্যারাকপুর লোকসভার বিভিন্ন কালী মন্দিরে সকাল থেকেই দেখা গেল অন্য এক ছবি। নতুন খাতা হাতে নিয়ে মায়ের আশীর্বাদ কামনায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত ভক্তরা। নতুন বছর যেন সকলের জন্য শুভ হয়, এই প্রার্থনা নিয়েই মায়ের দরবারে ছুটে এসেছেন তাঁরা।
নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড় মা কালীর মন্দিরে এদিন সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড়। দূর দূরান্ত থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ মায়ের দর্শন ও পুজো দিতে এসেছেন। সকলের মুখেই যেন একই সুর – নতুন বছর যেন সকলের ভালো কাটে, শান্তি ও সমৃদ্ধি ভরে উঠুক জীবন।
মন্দির কমিটির সম্পাদক জানান, প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের দিনে বড় মা কালীর মন্দির চত্বরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ধর্ম যার যার, বড়মা সবার।” এই ঐক্যের সুর যেন নববর্ষের প্রথম দিনেই ধ্বনিত হল মন্দির প্রাঙ্গণে।
অন্যদিকে, শ্যামনগরের বহু প্রাচীন ব্রহ্মময়ী কালীমন্দিরেও সকাল থেকে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লক্ষ্মী ও গণেশের প্রতিমা হাতে নিয়ে মায়ের কাছে সকলের একটাই আন্তরিক কামনা – জগতের সকলের মঙ্গল হোক, নতুন বছর ভরে উঠুক আনন্দ ও শান্তিতে।
নববর্ষের প্রথম দিনে কালী মন্দিরগুলিতে ভক্তদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একদিকে যেমন বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ, তেমনই অন্যদিকে নতুন বছরের শুরুতে মায়ের আশীর্বাদ লাভের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। নতুন খাতা খুলে যেমন ব্যবসায়ীরা নতুন করে সাফল্যের পথে যাত্রা শুরু করার সংকল্প নিচ্ছেন, তেমনই সাধারণ মানুষও মায়ের কাছে আগামী দিনগুলির জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছেন। এই দৃশ্যই যেন প্রমাণ করে, ধর্মীয় বিশ্বাস আর উৎসবের আনন্দ আজও বাঙালির জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।