“খাসির মাংসের দোকানে ছাগল-ভেড়া কেন?”-দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো জনতা

টালিগঞ্জের আজাদগড় বাজার সংলগ্ন একটি খাসির মাংসের দোকানে জ্যান্ত ভেড়া ও ছাগল উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাসির মাংসের নামে আসলে ভেড়া ও ছাগল কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল এবং শুক্রবার হাতেনাতে বিষয়টি ধরে ফেলেন তাঁরা। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের দাবি, এটি সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কারণ খাসির মাংসের তুলনায় ভেড়া ও ছাগলের মাংসের দাম অনেকটাই কম। বর্তমানে বাজারে খাসির মাংসের দাম কেজি প্রতি ৮৫০-৮৬০ টাকা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র শনিবার বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধের তদন্তের জন্য আমাদের আলাদা বিভাগ রয়েছে। কেউ অভিযোগ জানালে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয় তথা ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্ত জানান, ‘আজাদগড় কলোনি কমিটি ও বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি তাঁদের ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে আজাদগড় বাজারের এক বাসিন্দা ওই মাংস দোকানের এক কর্মীকে একটি ছাগল নিয়ে দোকানের দিকে যেতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তিনি ওই কর্মীর পিছু নেন এবং দেখেন, এতদিন যেখানে খাসির মাংস রাখা হত বলে সকলে জানতেন, সেই জায়গাতেই ছাগলটিকে রাখা হচ্ছে। ওই ব্যক্তির চিৎকারে আশেপাশে থাকা আরও কয়েকজন ছুটে আসেন। এরপর স্থানীয়রা দোকানের কর্মীকে চাপ দিলে তিনি দোকান থেকে দুটি জ্যান্ত ভেড়া ও প্রায় তিনটি ছাগল বের করেন। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যে বাড়িতে মাংসের দোকানটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক মনা সাহা জানিয়েছেন, ‘যিনি দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন, তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘মাংস বিক্রি সংক্রান্ত পুরসভার আইনে এই ধরনের প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’