বিজ্ঞানীদের হাতে এল চমকপ্রদ জীবাশ্ম! ৬২ মিলিয়ন বছরের পুরনো ‘ফসিল’ দেখাল নতুন দিশা

বিজ্ঞানীদের হাতে এল এক চমকপ্রদ জীবাশ্ম, যার বয়স আনুমানিক ৬২ মিলিয়ন বছর। এই জীবাশ্মটি ডাইনোসর যুগ শেষ হওয়ার পর পৃথিবীতে স্তন্যপায়ীদের আবির্ভাবের রহস্য সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মেক্সিকো শহর থেকে আবিষ্কৃত এই জীবাশ্মটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এটি ৬২ মিলিয়ন বছর আগের। প্রাপ্ত কঙ্কালের গঠন থেকে অনুমান করা যায়, সেই সময় পৃথিবীতে ধীরে ধীরে নতুন প্রজাতির প্রাণীদের আগমন ঘটছে, যার মধ্যে স্তন্যপায়ীরা ছিল অন্যতম অগ্রণী।
ডাইনোসরদের বিলুপ্তির পর পৃথিবীর পরিবেশ যখন পরিবর্তিত হচ্ছিল, তখন অনেক প্রজাতি টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছিল। তবে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা গাছপালা থেকে শুরু করে মাটি পর্যন্ত সর্বত্র নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করে। যেখানে অন্যান্য প্রজাতি পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে বিলুপ্ত হচ্ছিল, সেখানে এই প্রাণীরা নতুন পরিবেশে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। ফলস্বরূপ, সেই সময় থেকেই পৃথিবীতে স্তন্যপায়ীদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে শুরু করে।
প্রাপ্ত জীবাশ্মের কঙ্কাল আশ্চর্যজনকভাবে এত বছর পরেও প্রায় অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়ে ভাবছেন, ডাইনোসর যুগের পরবর্তী প্রতিকূল পরিবেশেও এই প্রাণীরা কীভাবে এত সহজে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছিল।
এই স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের বৃক্ষবাসী হওয়ার ক্ষমতা। একইসঙ্গে তারা প্রয়োজনে মাটিতেও অবাধে চলাচল করতে পারত। এই দ্বৈত ক্ষমতার কারণে তারা সেই সময়ের পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সহজ করে তুলেছিল। এছাড়াও, দ্রুত বংশবিস্তার করার ক্ষমতা তাদের অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করেছিল।
গাছে বসবাসের সুবিধার জন্য এই প্রাণীদের হাতের নখ ছিল অত্যন্ত ধারালো, যা তাদের শিকার ধরতে সহায়ক ছিল। মনে করা হয়, তারা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় গাছেই কাটাত। এই নতুন জীবাশ্মটি ডাইনোসর পরবর্তী যুগে স্তন্যপায়ীদের বিবর্তন এবং পৃথিবীতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।