প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশ কেন্দ্রের! চাকরি ধরে রাখতে ৬ মাসের ব্রিজ কোর্স বাধ্যতামূলক

বিএড ডিগ্রিধারী প্রায় ১০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের (Primary Teachers) চাকরি টিকিয়ে রাখতে হলে এবার ৬ মাসের একটি ব্রিজ কোর্স করতে হবে। সম্প্রতি এমনই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (NCTE)। এই নতুন নির্দেশ অনুসারে, রাজ্যে টেট ২০১৪-এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে যে সমস্ত বিএড ডিগ্রিধারীরা প্রাইমারি স্কুলে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের এই ব্রিজ কোর্সটি আবশ্যিকভাবে করতে হবে। এই কোর্সের ফলাফলের উপরেই নির্ভর করবে তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ।
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি বিএড ডিগ্রিধারী প্রাথমিক শিক্ষকদের (Primary Teachers) চাকরিতে বহাল থাকার পক্ষেই রায় দিয়েছে। তবে, NCTE এবার ৬ মাসের এই ব্রিজ কোর্সটিকে বাধ্যতামূলক করেছে। যদিও এই সংস্থার দাবি, আদালতের রায়কে মান্যতা দিয়েই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। একজন প্রার্থী এই কোর্স করার জন্য একবারই সুযোগ পাবেন। যারা এই কোর্সে উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তারা আর কোনও সুযোগ পাবেন না এবং সেক্ষেত্রে তাদের চাকরিতে নিয়োগ অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার শিক্ষককে (Primary Teachers) এই কোর্সের আওতায় আনা হবে।
এর আগে বহু শিক্ষককে (Primary Teachers) উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য রাজ্য সরকার রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। তারও আগে, কেবলমাত্র মাধ্যমিক পাশ করা প্রার্থীরাও প্রাথমিকের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এমনকি, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা অনেক প্রার্থীও ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর তুলতে পারেননি। কেন্দ্রীয় সংস্থা নতুন শর্ত আরোপ করার পর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের উপর দায়িত্ব ছিল উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর সহ পাশ করানো এবং তারপর ডিএলএড প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উল্লেখ্য, ছয় মাসের ব্রিজ কোর্স প্রশিক্ষণের দায়িত্ব এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ পালন করেছে। তবে, এবার সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিংকে (NIOS)। ওপেন অ্যান্ড ডিসট্যান্স লার্নিং (ODL) পদ্ধতিতে এই কোর্স পরিচালনা করার অনুমতি পাবে NIOS।
সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওডিএল পদ্ধতিতে ব্রিজ কোর্স চালানোর অনুমোদন বর্তমানে NIOS-এর কাছে না থাকলেও, পূর্বে এমন কোর্স করানোর অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন করে অনুমোদন পেতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশা করা যায়। NCTE-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের আগে চাকরিতে নিযুক্ত বিএড ডিগ্রিধারী প্রাথমিক শিক্ষকরাই কেবলমাত্র এই কোর্সটি করতে পারবেন। তবে, এই কোর্স কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।