পাখি মারার বন্দুক দিয়ে কুকুরকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ২

রাঁচির নৃশংস ঘটনার পর এবার বাংলার বারাসতে প্রকাশ্যে এক সারমেয়কে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার বারাসতের আরদেবক এলাকায় পাখি মারার বন্দুক দিয়ে একটি কুকুরকে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবক সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে বারাসত থানার পুলিশ। আজ মৃত কুকুরের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দুজনের নাম সঞ্জীব ঘোষ এবং শিশির রায়। অভিযোগ, পাখি মারার বন্দুকটি সঞ্জীবের এবং সেই বন্দুক দিয়েই শিশির কুকুরটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সঞ্জীবের নাবালক ছেলেও ওই বন্দুক নিয়ে সম্প্রতি রামনবমীর মিছিলে অংশ নিয়েছিল। পুলিশ শিশিরকে গ্রেফতারের পাশাপাশি নথি ছাড়া বন্দুক রাখার অভিযোগে সঞ্জীবকেও গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিশিরের গুলিতে কুকুরটি চিৎকার করতে করতে একসময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয়রাই অভিযুক্ত দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রায়শই এলাকায় বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করত এবং এই বিষয়ে অতীতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা যেভাবে অসাবধানে গুলি চালাত, তাতে যে কোনও দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমনকি কিছুদিন আগে এক কৃষকের কান ঘেঁষে গুলি বেরিয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীবের বাড়িতে দুটি বন্দুক রয়েছে এবং তার নাবালক ছেলেও সেই বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করে। এদিনের ঘটনায় শিশিরের সঙ্গে সঞ্জীবের ছেলেও ছিল, তবে স্থানীয়রা শিশিরকে ধরতে পারলেও সে পালিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মত্ত অবস্থায় ছিল। যদিও সঞ্জীবের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং বহিরাগত দুজন এসে তার বাড়ি থেকে বন্দুক নিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগেও অভিযুক্তদের বন্দুকের গুলিতে বেশ কয়েকজন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন এবং এই বিষয়ে অভিযুক্তদের সতর্কও করা হয়েছিল।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। আজ মৃত কুকুরের ময়নাতদন্তের পর ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।