SSC কাণ্ডে বড় খবর! সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর CBI চার্জশিটে ‘চারমূর্তি’র কীর্তি ফাঁস, এই ‘চারমূর্তি’রা হলেন:

যোগ্যদের মাঝে মিশে থাকা একাধিক অযোগ্য প্রার্থীকে চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় ২০১৬ সালের এসএসসির (SSC Recruitment Scam) পুরো প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের জেরে চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৫২ জন। এই পরিস্থিতিতে এসএসসি (School Service Commission) নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের ‘চারমূর্তি’র নাম উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের চার্জশিটে।

২০২২ সাল থেকে এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করছে সিবিআই। আদালতে জমা দেওয়া একাধিক চার্জশিটে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ স্কুল সার্ভিস কমিশন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বহু উচ্চপদস্থ কর্তার নাম রয়েছে। তবে, এই দুর্নীতির মূলে থাকা ‘চারমূর্তি’ হলেন এসএসসির তিনজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্তা ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের একজন প্রাক্তন সভাপতি।

নিয়োগ দুর্নীতির এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে এই চারজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওএমআরের তথ্য নষ্ট করা, নম্বরে কারচুপি, অযোগ্যদের নিয়োগের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই ‘চারমূর্তি’রা হলেন:

স্কুল সার্ভিস কমিশনের একদা পরামর্শদাতা শান্তিপ্রসাদ সিনহা
এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক সাহা
এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়
নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, এই দুর্নীতির মূল হোতা ছিলেন শান্তিপ্রসাদ সিনহা। ২০২২ সালে তিনি গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্যদের জন্য ভুয়ো সুপারিশপত্র তৈরি করা, অযোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের থেকে টাকা তোলার জন্য ‘মিডলম্যান’ নিয়োগ করা এবং ওএমআর শিটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

শান্তিপ্রসাদের মতোই এই দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে সমানভাবে জড়িত ছিলেন এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক সাহা। তার বিরুদ্ধে উত্তরপত্র সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, ১৮৩টি জাল সুপারিশপত্র ও নিয়োগপত্রে অনুমোদন দেওয়া এবং চাকরির দাবিতে আন্দোলন করা চারজন প্রার্থীকে অবৈধভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে শান্তিপ্রসাদকে সাহায্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসএসসির আরেক প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীদের ওএমআর শিট তথা উত্তরপত্রের তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ এনেছে সিবিআই। অভিযোগ, তার নির্দেশেই কমিশনের সার্ভারে ওএমআরের নম্বর বদলানোর কাজ হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওএমআর শিট মূল্যায়নকারী সংস্থা নাইসার কাছ থেকে নম্বর আসার পর অযোগ্যদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিতেন এবং নম্বর পরিবর্তনের জন্য ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদের প্রভাবিত করতেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য।

এসএসসির এই তিন উচ্চপদস্থ কর্তার পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। সিবিআইয়ের দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য শান্তিপ্রসাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। কল্যাণময় ১৮৩ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে জাল নিয়োগপত্র দেন। এছাড়াও, অযোগ্যদের নামে যে সুপারিশপত্রগুলি দেওয়া হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যেই তার ভিত্তিতে সকলের কাছে নিয়োগপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এই প্রাক্তন সভাপতি।

এছাড়াও এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের চার্জশিটে আরও একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে সিবিআই। এদের মধ্যে কেউ স্কুল সার্ভিস কমিশনে কর্মরত ছিলেন, আবার কেউ এই দুর্নীতির ‘মিডলম্যান’ হিসেবে কাজ করতেন।

২০১৬ সালের এসএসসির প্যানেলে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট সকলের চাকরি বাতিল করেছে। উত্তরপত্র নষ্ট করে দেওয়ায় কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য, তা নির্ধারণ করা যায়নি। অনেকেরই অভিযোগ, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করতে না পারার ফলে সমগ্র প্যানেল বাতিলের যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তার নেপথ্যে এই ‘চারমূর্তি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।