“মাঝে ১১ ঘণ্টার ব্রেক, বিলাসবহুল জেট”-জেনেনিন কী ভাবে রানাকে ভারতে নিয়ে এল NIA

মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। সেই ভয়াবহ হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী তাহাউর হোসেন রানা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাক সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে বের করার আশা রাখছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। তাই, তাকে নিরাপদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে নিয়ে আসার কাজটি অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং এর জন্য কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল।
‘ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, তাহাউর রানাকে ভারতে আনার জন্য একটি অত্যাধুনিক ‘গালফস্ট্রিম জি৫৫০’ বিমান ভাড়া করা হয়েছিল। এটি একটি মাঝারি আকারের, অতি দূর পাল্লার বিলাসবহুল বিজ়নেজ় জেট, যা অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিলাসবহুল ইন্টেরিয়রের জন্য বিখ্যাত। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার একটি চার্টার উড়ান সংস্থার কাছ থেকে এই বিশেষ বিমানটি ভাড়া করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ২টা ১৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে) আমেরিকার ফ্লোরিডা প্রদেশের মায়ামি শহর থেকে উড়েছিল বিমানটি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় এটি একবার বিরতি নেয়। ওই দিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (ভারতীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে) বিমানটি রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অবতরণ করে। রোমানিয়ার রাজধানীতে প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে) গালফস্ট্রিম সরাসরি নয়াদিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করে।
অবশেষে, ভারতীয় সময় দুপুর তিনটে নাগাদ বিমানটি নয়া দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে এসে নামে। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এনআইএ-র বুলেটপ্রুফ গাড়ির কনভয়। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সেই গাড়িতে করেই তাহাউর হোসেন রানাকে এনআইএ-র সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। রানাকে নিরাপদে ভারতে আনা এনআইএ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ২৬/১১ হামলার অজানা তথ্য এবং পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।