জঙ্গিপুরের পর এবার সুতি, ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ প্রতিবাদীদের

মঙ্গলবার জঙ্গিপুরের পর বুধবার নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের আরেক এলাকা, সুতি। এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। জাতীয় সড়কে অবরোধ সৃষ্টি হওয়ায় বহু গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সুতি থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং লাগাতার ইটবৃষ্টি চলে। পুলিশ প্রথমে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আধিকারিকরা লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আধা সেনা মোতায়েনের দাবিও তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক জাকির হোসেনকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এরপর রাতেই রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
তবে, জঙ্গিপুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ফের একই ছবি দেখা গেল সুতিতে। আগেই সুতি ও রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় ১৬৩ নম্বর ধারা জারি করা হয়েছিল। তার পরেও কীভাবে এত বড় জমায়েত হল, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। যদিও, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। বামেরাও এদিন ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নয়া ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।