‘আসল মানুষ হতে গেলে ক্ষমা করা শিখতে হবে’, মহাবীর জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ঐক্যের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

“মানুষকে ক্ষমা করতে শিখতে হবে।” জৈন ধর্মের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণী উদ্ধৃত করে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মহাবীর জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ঐক্যের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, “ঐক্যের জন্য লড়তে হবে। গোটা বিশ্বের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ঐকতার জন্য ভাবতে হবে, ঐকতার জন্য কাজ করতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ হিসেবে আমরা সকলেই সমান। কিন্তু মানবিকতা এবং মনুষ্যত্বই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষে রূপান্তরিত করে। তাঁর কথায়, “আমরা তো রক্ত মাংসের মানুষ। কিন্তু মানবিকতা, মনুষ্যত্ব একজন মানুষকে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলে। সেই আসল মানুষ, যাঁরা সবাইকে ভালবাসে। যারা সবাইকে ভালবাসে, তাকে সবাই ভালবাসে।”

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জৈন ধর্মের শিক্ষার তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জৈন ধর্মেই রয়েছে, কেউ যদি পাপ কাজ করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দাও। জৈন ধর্মের লোকেরা তাই ক্ষমা চান।” ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে মমতা বলেন, “আমি এরকম দু-তিনজনকে চিনি, এখানকার নয়, বাইরে, নির্বাচনের সময়ে আমাদের সঙ্গে অনেক পাঙ্গাপাঙ্গি হয়েছে। কিন্তু পরে ওনারাই বলেছেন, ক্ষমা করে দিতে! এই শিক্ষাটা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষা, সকলকেই শিখতে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ভুলের ক্ষমা করে দেওয়ার’ বার্তা অথবা ‘মানুষের ভুল হওয়ার অধিকার রয়েছে’ এর আগেও একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে দিতে দেখা গিয়েছে। তিনি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষ মাত্রই ভুল করে এবং সেই ভুলকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, গত সোমবার চাকরিহারাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রীকে ‘রাইট টু মেক ব্লান্ডার্স’ (ভুল করার অধিকার) কথাটি বলতে শোনা গিয়েছিল। মহাবীর জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ফের একবার তাঁর সেই মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটাল বলে মনে করছেন অনেকে।