বারাণসীতে নৃশংস গণধর্ষণের অভিযোগ: সাতদিন ধরে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ২৩ জনের খোঁজে পুলিশ

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে ফের নারকীয় যৌন হিংসার অভিযোগ। এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে সাতদিন ধরে লাগাতার গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ২৩ জনের বিরুদ্ধে, যাদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিখোঁজ আরও ১১ জন, যাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

🗓️ কী ঘটেছিল ২৯ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে?
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৯ মার্চ বারাণসীর পিশাচমোচন এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে একটি হুক্কা বারে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবকের আলাপ হয়। অভিযোগ, সেদিনই তাঁকে ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয়, তারপর সিগরা এলাকার একাধিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।

নির্যাতিতা ওই ছাত্রী দীর্ঘ সাতদিন নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর পরিবার ৪ এপ্রিল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন, এবং সেদিনই পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়। তবে তখন ধর্ষণের কোনও অভিযোগ ওঠেনি। ৬ এপ্রিল নির্যাতিতা তরুণী নিজেই আলাদা করে ধর্ষণের অভিযোগ করেন, যার ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়।

🚨 অভিযুক্ত কারা?
পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া ছয়জনের মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই নির্যাতিতার পরিচিত। কারও সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে আলাপ, তো কেউ প্রাক্তন সহপাঠী। বাকিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চলছে।

ভারুণা জোনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) চন্দ্রকান্ত মীনা জানিয়েছেন—

“মেয়েটি প্রথমে স্বেচ্ছায় বেরিয়েছিলেন। নিখোঁজ ডায়েরির সময় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়নি। ৬ এপ্রিল নির্দিষ্ট অভিযোগ আসার পরেই তদন্ত শুরু হয়েছে। মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক, নাবালিকা নয়।”

📹 কী বলছে হুক্কা বারের সিসিটিভি?
পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হুক্কা বারের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন হোটেলে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মাদক খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।

🎓 ক্রীড়া প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নির্যাতিতা
নির্যাতিতা নিয়মিত ইউপি কলেজে দৌড়ের অনুশীলন করতেন, কারণ তিনি একটি ক্রীড়া সংক্রান্ত কোর্সে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন একজন পড়ুয়াকে ঘিরে এই ঘটনা ঘৃণ্য মনোভাবের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সমাজকর্মীরা।

⚖️ সমাজে বার্তা—নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। বারবার মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল, কিংবা অচেনা বন্ধুর ফাঁদে পড়ার ঘটনা সমাজে কিশোরীদের জন্য বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।

অধিকারকর্মীরা দাবি করছেন, দ্রুত ট্র্যাক কোর্টে শুনানি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।

📌 তদন্ত চলছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—মেয়েটি যখন নিখোঁজ ছিলেন সাতদিন ধরে, তখন প্রশাসন কী করছিল?

এখন গোটা রাজ্য চাইছে, দোষীরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেফতার হোক এবং যেন কঠোরতম শাস্তি পায়।