রামনবমীর মিছিলে ছোড়া হল ডিম, উত্তেজনা ছড়াল মহারাষ্ট্রের পালঘরে — এক ব্যক্তি আটক

রামনবমী (Ram Navami) উপলক্ষে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে ঘিরে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়াল মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায়। স্থানীয় চিখালডোংরি এলাকার সর্বেশ্বর মন্দির থেকে শুরু হওয়া রামনবমীর শোভাযাত্রা যখন পশ্চিম ভিরারের গ্লোবাল সিটির পিম্পলশ্বর মন্দিরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, ঠিক তখনই কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মিছিল লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে হামলা চালায়, বলে অভিযোগ।

🎥 কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রামনবমী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন প্রচুর রামভক্ত। ১০০-১৫০টি গাড়ি, একটি রথ ও দুটি টেম্পো ছিল ওই শোভাযাত্রায়। চলছিল ঢাক-ঢোল, সঙ্গীত এবং ধর্মীয় স্লোগান। ঠিক সেই সময়েই কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক ডিম ছুঁড়তে শুরু করে, যার ফলে আচমকা ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

👮 দ্রুত হস্তক্ষেপে পুলিশ, নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কেউ গুরুতর আহত হননি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ, এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।

পালঘর থানার এক আধিকারিক জানান—

“এই ঘটনায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র — এমন একাধিক ধারায় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

📱 সতর্কতা প্রশাসনের, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান
পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। জনসাধারণকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

🔁 অন্য রাজ্যেও অশান্তি
উল্লেখ্য, রামনবমী উপলক্ষে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রা চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ছুঁড়ে মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ব্রহ্মদেব স্কোয়ারে ডিজে সাউন্ড আটকানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আয়োজকদের বচসা হয়, যার জেরে হাতাহাতিও হয় বলে জানা গিয়েছে।

📌 উপসংহার
এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিপন্থী এবং তা সামাজিক অশান্তি ছড়াতে পারে, বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন নজর, আসন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলিকে ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে তা উদযাপন সম্ভব হয়।