বিশেষ: ২ রাজ্যের ১ টি স্টেশন, ভারতের এই স্টেশনে টিকিট কাউন্টার গুজরাটে, স্টেশনমাস্টারের ঘর মহারাষ্ট্রে

দেশের অন্যান্য রেলস্টেশনের মতোই দেখতে। আপাতদৃষ্টিতে আর পাঁচটা স্টেশনের মতোই সাধারণ। তবে এই স্টেশনটি সত্যিই ব্যতিক্রমী। কারণ এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের অধীনে নয়, বরং দুটি রাজ্য ভাগ করে নিয়েছে।

হ্যাঁ, এমনটাই ঘটেছে মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সীমান্তে অবস্থিত নয়াপুর রেলস্টেশনের ক্ষেত্রে। এই স্টেশনের বিভাজন এতটাই স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষও তা সহজেই বুঝতে পারবেন। স্টেশনের টিকিট কাউন্টারটি যেখানে অবস্থিত, সেটি পড়েছে গুজরাট রাজ্যের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে, স্টেশনমাস্টারের অফিস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়েছে মহারাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে।

ভারতের অন্যান্য রেলস্টেশনে স্টেশনের নাম হিন্দি, ইংরেজি এবং স্থানীয় ভাষায় লেখা থাকে। তবে নয়াপুর এক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র। দুটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই স্টেশনের নামফলকে চারটি ভাষায় লেখা হয় – হিন্দি, ইংরেজি, গুজরাটি এবং মারাঠি।

শুধু তাই নয়, এই স্টেশনের যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বসার বেঞ্চ। সেই বেঞ্চটিও দুটি ভাগে বিভক্ত – অর্ধেক গুজরাটের দিকে এবং বাকি অর্ধেক মহারাষ্ট্রের দিকে। এমনকি, বেঞ্চের কোন অংশ কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু যাত্রী এই अनोखा বেঞ্চে বসে ছবি তোলেন, যা এই স্টেশনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বহু মানুষ শুধুমাত্র এই বিশেষ স্টেশনটি দেখার জন্য আসেন। দুই রাজ্যের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এই স্টেশনটি সত্যিই এক কৌতূহলের বিষয়। যেখানে টিকিট কাটতে হয় এক রাজ্যে, আর ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অন্য রাজ্যে। নয়াপুর রেলস্টেশন যেন ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর এক জীবন্ত উদাহরণ, যেখানে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতি ও রাজ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে এক অভূতপূর্ব উপায়ে।