ট্রাম্পের ৩৬ ও ৩২% শুল্ক মোকাবিলায় যে পথে হাঁটছে থাইল্যান্ড-ইন্দোনেশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ওপর ৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর এবার পাল্টা পদক্ষেপের পথে হাঁটছে থাইল্যান্ড। দেশটি আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে আরও থাই বিনিয়োগ উৎসাহিত করারও ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকক।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরেক দেশ ইন্দোনেশিয়াও মার্কিন শুল্ক মোকাবিলায় আলোচনার পথে হাঁটার কথা জানিয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা রবিবার জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের থাই পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, বিমান এবং কৃষি পণ্য আমদানি বৃদ্ধি করবে।
থাই পিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, সিনাওয়াত্রা থাই মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি থাই বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং আমেরিকান পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।
থাইল্যান্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে এক বিবৃতিতে সিনাওয়াত্রা সতর্ক করে বলেন, এই উচ্চ শুল্কের কারণে ইলেকট্রনিক্স, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কৃষিজাত পণ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে বদ্ধপরিকর।
মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী পিচাই চুনহাওয়াজিরা মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্টার্তো রবিবার অন্তরা নিউজকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ইন্দোনেশিয়ান পণ্যের ওপর ৩২ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের কারণে জাকার্তা আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
হার্টার্তো পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে না হেঁটে কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিকভাবে লাভজনক সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন।