“ডাইনির হাতে ছেলে দিলে কি বাঁচবে?”- মমতার চাকরি বৈঠককে কড়া ভাষায় আক্রমণ দিলীপের

নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে রাজ্যে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল সরকারের এই উদ্যোগকে “ভাঁওতাবাজি” বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

সোমবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপবাবু সাফ জানালেন —“এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যা বলবেন সেটাই চূড়ান্ত। চাকরিপ্রার্থীদের কোনও মতামতের মূল্য নেই। আগে আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গেও এমনই আচরণ করা হয়েছিল। এটা আসলে সময় নষ্ট করা।”তাঁর স্পষ্ট মত, “এই সমস্যার একমাত্র সমাধান কেবল আদালতের হাতেই রয়েছে।”

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের উপর দায়িত্ব বর্তেছে, তবে দিলীপ ঘোষ সে নিয়ে হতাশ। তাঁর মন্তব্য,“দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যারা চাকরি বেচেছে। একজন চোরকে যদি তদন্তের ভার দেওয়া হয়, সে কীভাবে সত্যি বলবে?”

তিনি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,“বাইরের নিরপেক্ষ লোকদের নিয়ে কমিটি হোক— যেমন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁরাই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আদালতে রিপোর্ট দিন। তবেই প্রকৃত সমাধান সম্ভব।”

দিলীপবাবুর অভিযোগ,“মুখ্যমন্ত্রী আবার পিছনের দরজা দিয়ে, ঘুরপথে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার রাস্তা তৈরি করছেন। যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের সঙ্গে সত্যিকারের সহানুভূতির বদলে রাজনৈতিক নাটক চলছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার চাকরিচ্যূত। কিন্তু সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে। এক সময় দুই পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয় পরিস্থিতি। হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় পুলিশকে।

গত শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যে প্রায় ২৬,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে তিনি নিজে বৈঠকে বসবেন। তবে সেই সভা এখন রাজনীতির তুঙ্গে।