রামনবমীর ‘অস্ত্র মিছিলে’ মিঠুন, কাঠারি নিয়ে খেলা দেখালেন রামভক্তরা, দেখা গেল অস্ত্র-লাঠি

আজ রামনবমী উপলক্ষ্যে বারাসতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বারাসত ময়না চেকপোস্ট থেকে শুরু হয়ে কাছারি ময়দান পর্যন্ত এই শোভাযাত্রাটি পরিক্রমা করে।
এই শোভাযাত্রায় বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থক उत्साहের সঙ্গে অংশ নেন। তবে শোভাযাত্রায় কিছু অংশগ্রহণকারীর হাতে খোলা তলোয়ার, লাঠি এবং অন্যান্য অস্ত্র দেখা যাওয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মিঠুন চক্রবর্তী এবং সুকান্ত মজুমদার একটি খোলা গাড়িতে শোভাযাত্রার পুরো পথে নেতৃত্ব দেন। মিঠুন চক্রবর্তী হাত নেড়ে সমবেত জনতার অভিবাদনের জবাব দেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন। সুকান্ত মজুমদারও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্লোগান তোলেন।
শোভাযাত্রা শেষে কাছারি ময়দানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “আজকের এই পবিত্র দিনে আমরা সকলে একত্রিত হয়েছি। রামনবমী আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক।” তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায় এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপি সেই পরিবর্তন আনবে।”
তবে শোভাযাত্রায় অস্ত্র ও লাঠি দেখা যাওয়ায় ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যও এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের হাতেই এই অস্ত্রগুলি দেখা গেছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি, তবে প্রশ্ন উঠছে কেন শোভাযাত্রায় অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন স্থানে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, सार्वजनिक স্থানে অস্ত্র প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে। এই ঘটনা বারাসতের শোভাযাত্রাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।
এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ময়দানে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসন এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা। তবে মিঠুন চক্রবর্তী ও সুকান্ত মজুমদারের অংশগ্রহণে বারাসতের রামনবমী শোভাযাত্রাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।