রামনবমীর আবরণে রাজনীতির রং: ধর্মীয় উৎসবের আড়ালে শাসক-বিরোধী তরজা

রামনবমীর সকাল থেকেই রাজ্যের আকাশ মুখরিত ছিল ধর্মীয় ধ্বনিতে। ভগবান রামের বন্দনায় রাজ্যজুড়ে পালিত হয় উৎসব, বের হয় প্রভাতফেরি, শোভাযাত্রা, আয়োজিত হয় রামপুজো ও প্রসাদ বিতরণ। তবে এই ধর্মীয় উৎসবের আবহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং শাসক-বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ।

এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উদ্যোগে বিশাল রামনবমীর শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। গেরুয়া পতাকা হাতে, মুখে রাম নাম নিয়ে মিছিলে অংশ নেন দলের প্রথম সারির নেতারা। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও পিছিয়ে ছিল না। কলকাতার বাগবাজারে হনুমান মন্দিরে সকালে উপস্থিত হন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি নিজের হাতে ফুল, বেলপাতা, তুলসীপাতা দিয়ে পুজো দেন এবং পুজোর শেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসাদ (লাড্ডু) বিতরণ করেন।

রামনবমীর শোভাযাত্রায় কুণাল ঘোষ (নিজস্ব ভিডিয়ো)

মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “এই মন্দির খুব জাগ্রত। বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এখানে পুজো দিতে আসেন। আমি রামনবমীতে এসেছি, আবার আসব হনুমান জয়ন্তীতেও।” একইসঙ্গে, নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রাম মানে আমাদের কাছে সীতারাম। এখানে কোনও প্রদর্শনের ব্যাপার নেই। আজকাল অনেক জায়গায় দেখি ডিজে, অস্ত্রের প্রদর্শন, মন্দির দখলের চেষ্টা। আমাদের পুজোয় এসব নেই, আছে শুধুই হৃদয়ের ভক্তি।”

নিজের হাতে ফুল, বেলপাতা দিয়ে পুজো শশী পাঁজার (নিজস্ব চিত্র)

অন্যদিকে, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে বের হওয়া রামনবমীর শোভাযাত্রায় দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে। সেই মিছিলে শুধু হিন্দুরাই নন, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনও অংশ নেন। সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “কিছুদিন আগেই ঈদ গেল, আমরা গিয়েছিলাম সিমুই খেতে। আজ রামনবমী। যার ধর্মীয় আচার সে পালন করছে, আবার শোভাযাত্রায় সব ধর্মের মানুষই হাঁটছেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”

তবে রামভক্তির আবহের মধ্যেই কড়া রাজনৈতিক আক্রমণ শানান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “ভগবান রাম পুজো পাক, বিজেপি নিপাত যাক। ওরা মেকি হিন্দু, ভেজাল হিন্দু। ধর্মকে ভোটের কাজে লাগায়। আমরা তা করি না। আমরা সত্যিকারের বিশ্বাসে শ্রদ্ধাশীল।”

কলকাতার বাগবাজারে হনুমান মন্দিরে শশী পাঁজা (নিজস্ব চিত্র)

এছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বিজেপি নেতারা শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। সবমিলিয়ে, রামনবমীর এই দিনে রাজ্যে একদিকে যেমন ছিল রামের প্রতি অগাধ ভক্তি, তেমনই স্পষ্ট ভাবে ফুটে ওঠে রাজনৈতিক উপস্থিতি। কে কাকে টেক্কা দেয়, তা হয়তো সময়ই বলবে, তবে আপাতত রামনবমীর দিন রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল।