বিশেষ: ৩৪৩৫৭ রান, ১০০ সেঞ্চুরি! তাও সচিনকে কিংবদন্তী মানেন না কপিল দেব? জেনেনিন কেন?

ক্রিকেটের ইতিহাসে সচিন তেন্ডুলকর এক কিংবদন্তী নাম। ব্যাটিংয়ের বহু রেকর্ড তার দখলে। ক্রিকেট বিশ্ব তাকে ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’ ও ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ নামে অভিহিত করে। তবে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব এই বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কপিল দেব সচিনকে কিংবদন্তি মানতেও নারাজ বলে মন্তব্য করেছেন, যা ক্রিকেট মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
২০০০ সালে কপিল দেব যখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হন, সেই সময় সচিন এবং তার সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসত। সচিন তেন্ডুলকর তার আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’-তেও কপিল দেবের সঙ্গে তার মিশ্র অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।
বইটিতে সচিন লেখেন, “২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে কপিল দেবের ব্যবহারে তিনি রীতিমতো হতাশ হয়েছিলেন। দলের রণনীতি নিয়ে কপিল দেব কখনই কোনো পরামর্শ দিতেন না। কারণ ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’ মনে করতেন, অধিনায়কই দলের শেষ কথা। আর এই মনোভাব সচিনের অধিনায়কত্বের উপর প্রভাব ফেলেছিল।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কপিল দেব আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সচিন জানতেন না কিভাবে একটি সেঞ্চুরিকে ডাবল বা ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে হয়। সচিন নিঃসন্দেহে একজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ছিলেন, কিন্তু বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান তিনি কখনোই ছিলেন না।”
কপিল দেবের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ টেস্ট ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরের একটিও ট্রিপল সেঞ্চুরি নেই। লাল বলের ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ২৪৮। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ৬টি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।
কপিল দেবের এই মন্তব্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সচিনের অগুনতি ভক্ত কপিলের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, সচিনের পরিসংখ্যান এবং ক্রিকেট বিশ্বে তার অবদান অনস্বীকার্য। অন্যদিকে, কিছু ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ কপিলের মন্তব্যের সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছেন এবং মনে করছেন, কপিল দেব সম্ভবত সচিনের ব্যাটিংয়ের একটি নির্দিষ্ট দিক নিয়ে আলোকপাত করতে চেয়েছেন।
তবে, কপিল দেবের এই মন্তব্য আবারও ক্রিকেট ইতিহাসে দুই কিংবদন্তীর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা উস্কে দিল, যা ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চর্চার বিষয়।