পরকীয়ার সন্দেহে নয়ডায় স্ত্রীকে হাতুড়ি মেরে খুন! বাবাকে পুলিশে দিলেন ছেলে

স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহের বশে নয়ডার সেক্টর ১৫-তে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে খুন করেছে। শুক্রবার এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত মহিলার নাম আসমা খান (৪২)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত আসমার স্বামী নুরুল্লাহ হায়দার (৫৫) দীর্ঘদিন ধরেই তার স্ত্রীর উপর পরকীয়ার সন্দেহ পোষণ করত। এই নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। শুক্রবার তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়, সেই সময় অভিযুক্ত নুরুল্লাহ একটি হাতুড়ি নিয়ে এসে আসমার মাথায় একের পর এক আঘাত করতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই আসমার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পাশাপাশি, ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে এসে নমুনা সংগ্রহ করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী নুরুল্লাহ হায়দারকে গ্রেফতার করেছে।

নিহত আসমা খান পেশায় ছিলেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি নয়ডার সেক্টর ৬২-তে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পূর্বে তিনি দিল্লিতে থাকতেন এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। অভিযুক্ত নুরুল্লাহ হায়দার বিহারের বাসিন্দা এবং তিনিও একজন ইঞ্জিনিয়ার, তবে বর্তমানে তিনি বেকার ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০০৫ সালে আসমা ও নুরুল্লাহর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে এবং মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ঘটনার সময় তাদের দুই সন্তান বাড়িতেই ছিল। তাদের ছেলেই প্রথম পুলিশকে ফোন করে মায়ের মৃত্যুর খবর জানায়।

নিহত আসমার দেওর এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, সকালে ফোনে তারা পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, তবে তারা স্বপ্নেও ভাবেননি যে তার ভাই এমন চরম পদক্ষেপ নিতে পারে।

পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।