SSC-র ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল, জেনেনিন ঠিক কী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট?

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি খারিজ হয়ে গেল।

হাইকোর্টের রায় ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:

২০১৬ সালের এসএসসি শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা হাইকোর্ট পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। চাকরি হারানো বহু প্রার্থীও আলাদাভাবে মামলা দায়ের করেন।

আজ রায় ঘোষণার সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক করা প্রায় অসম্ভব। এর প্রধান কারণ হল, আসল ওএমআর (OMR) শিটগুলি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে কোন শিটকে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। আদালতে এমন তথ্যও পেশ করা হয়েছে যে, কিছু প্রার্থী সাদা খাতা জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছেন।

নতুন পরীক্ষা ও বেতন ফেরতের নির্দেশ:

সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না জানতে চেয়েছিলেন, নতুন করে স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, বহু ব্যক্তি চাকরির জন্য আবেদন না করেও নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তাই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন।

তবে, শীর্ষ আদালতের আজকের রায়ে চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, যাঁরা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের নিয়োগের পর থেকে পাওয়া সমস্ত বেতন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ১২ শতাংশ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে।

রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া:

রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল, একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বিশাল সংকট তৈরি হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী দুর্নীতি হয়েছে যে, সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। আদালতের এই রায় রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এবং চাকরি হারানো কর্মীরা পরবর্তীকালে কী পদক্ষেপ নেয়।