নদিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা, হাত বিচ্ছিন্ন হল দুই যাত্রীর

বুধবার দুপুরে নদিয়ার চাপড়া থানার সীমানগর বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তির একটি করে হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কৃষ্ণনগর থেকে হৃদয়পুরগামী একটি বাসের দুই যাত্রী জানালার বাইরে হাত বের করে রাখলে বিপরীত দিক থেকে আসা করিমপুর-কৃষ্ণনগর রুটের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত দু’জনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অসিত দাস নামে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি পেশায় ঘটক। অপরজন সনাতন হালদার, যাঁর বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর এবং তিনি মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন কৃষ্ণনগর থেকে হৃদয়পুরের দিকে যাচ্ছিলেন অসিত ও সনাতন। বাসের জানালার বাইরে তাঁদের একটি করে হাত রাখা ছিল। সেই সময় করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগরের দিকে আসা একটি দ্রুতগতির বাস সজোরে ধাক্কা মারে ওই বাসের পাশে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অসিত দাসের একটি হাত ঘটনাস্থলেই ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সনাতন হালদারের হাতটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে বাসের জানলা থেকে ঝুলতে থাকে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তড়িঘড়ি আহত দু’জনকে উদ্ধার করে কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর পুলিশ এখনও পর্যন্ত বাসের চালক বা কোনও কর্মীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে চাপড়া থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসযাত্রী রবিউল মণ্ডল জানান, “আমি ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, সীমানগরের কাছে অনেক ভিড় দেখতে পাই। কাছে গিয়ে দেখি দুইজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এবং পুলিশের ভয়ে কেউ সাহায্য করতে সাহস পাচ্ছে না। তখন আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন।”

কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “আমরা ঘটনার বিবরণ শুনেছি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা জানার জন্য তদন্ত চালানো হচ্ছে।”