সংসদে পেশ হল Waqf Amendment Bill, ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ কত?

বুধবার সংসদে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল পেশের পর থেকেই কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করেন। বিলটি নিয়ে সংসদের দুই কক্ষে ৮ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা চলবে, যার পর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।

তবে বিল পেশের আগেই বিরোধীরা কড়া অবস্থান নেয়। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল লোকসভায় বিলের বিরোধিতা করে বলেন, “এ ধরনের বিল পাস করার আগে সংসদ সদস্যদের সংশোধনী প্রস্তাব রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত। সরকার একতরফাভাবে আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। সময় না দিয়েই আইন সংশোধনের চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী।”

কী পরিবর্তন আসতে চলেছে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলে?
সংশোধনী বিলে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের দাবি, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার জটিলতা দূর করা।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনীতে—
✔️ ওয়াকফ বোর্ডের প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে
✔️ নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে
✔️ ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার রোধ করতে নজরদারি বাড়ানো হবে

এই প্রসঙ্গে এক সরকারি আধিকারিক জানান, “এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ওয়াকফের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পত্তি রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

তবে এই বিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বিলটি তড়িঘড়ি করে পাস করানোর চেষ্টা চলছে, যা সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন করছে।

বিরোধীরা আরও দাবি করেছে যে, বিলটির বেশ কিছু ধারা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ছিল। তবে সরকার তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেয়নি। কংগ্রেস সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, “কৃষি আইন পাশের সময়ও কেন্দ্র তাড়াহুড়ো করেছিল, পরে তা বাতিল করতে হয়েছিল। এখানেও যেন তেমনই পরিস্থিতি না তৈরি হয়।”

অন্যদিকে, ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলের পক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমর্থন দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল ও দিল্লিতে বেশ কয়েকজন মুসলিম মহিলা রাস্তায় নেমে এই বিলের প্রতি সমর্থন জানান। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, যেখানে লেখা ছিল “মোদি জিন্দাবাদ”!

ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ বলতে একচেটিয়াভাবে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে নিবেদিত সম্পত্তিকে বোঝায়। ভারতে ওয়াকফ বোর্ডের আওতায় রয়েছে—
📌 ৯.৪ লক্ষ একর জমি
📌 ৮.৭ লক্ষের বেশি সম্পত্তি
📌 ৪০,৯৫১টি বিচারাধীন মামলা

এত পরিমাণ সম্পত্তি থাকায়, ভারতীয় রেলওয়ে ও সশস্ত্র বাহিনীর পর ওয়াকফ বোর্ডই দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জমির মালিক।

লোকসভায় বিলটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলবে, এরপর ভোটাভুটি হবে। যদি বিলটি লোকসভায় পাশ হয়ে যায়, তাহলে রাজ্যসভায় পাঠানো হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সংশোধনী গরিব ও পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এটি আইনত জটিলতা তৈরি করবে।

এই বিলকে ঘিরে আগামী দিনে সংসদের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।