রামনবমীর মিছিলে টার্গেট ১ কোটি হিন্দু-কীর্তন-নাচ, বাংলাতে বড় প্ল্যান BJP-র, জেনেনিন কী কী ?

আগামী রবিবার রাম নবমী উদযাপন উপলক্ষে কলকাতা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মিছিলের প্রস্তুতি তুঙ্গে। বালিগঞ্জ, ইএম বাইপাস, টালিগঞ্জ ফাঁড়ি, পদ্মপুকুর এবং সল্টলেকসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হয়েছে। এই প্রচারপত্রে সাধারণ মানুষকে মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই প্রচার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের দাবি, রাম নবমী হিন্দুদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব এবং এই মিছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি করবে। দক্ষিণ কলকাতার একজন স্বেচ্ছাসেবক এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষকে জানাচ্ছি যে হিন্দুদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। তাই আরও বেশি সংখ্যক মানুষের এই মিছিলে আসা উচিত এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
মিছিলের প্রস্তুতি কতটা ব্যাপক, তা শুধুমাত্র দক্ষিণ কলকাতার পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। এই অঞ্চলের জন্য প্রায় ৫,০০০ পোস্টার এবং সমপরিমাণ হ্যান্ডবিল ছাপানো হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন যে তাদের মিছিলে কোনও ডিজে ব্যবহার করা হবে না। পরিবর্তে, কীর্তন এবং সনাতনী ঐতিহ্যের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে, রাম নবমীর মিছিলের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। গত বছর ২০২৩ সালে হাওড়ার কাজিপাড়ায় রাম নবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় বেশ কয়েকটি দোকান ও যানবাহন আগুনে ভস্মীভূত হয়। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে পুলিশ প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে এবারের মিছিলে কোনওরকম অস্ত্র বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেছেন যে এবারের রাম নবমীর মিছিলে প্রায় এক কোটি হিন্দু রাস্তায় নামবে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উত্তাপ ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা জনগণকে কোনওরকম প্ররোচনায় পা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “মিছিলে অংশগ্রহণকারী বিজেপি কর্মীদের হুমকিমূলক আচরণ সাধারণ মানুষ নিজেরাই প্রত্যক্ষ করবেন। রামচন্দ্র আমাদের সকলের কাছেই শ্রদ্ধার পাত্র, কিন্তু তাঁকে সামনে রেখে এতটা যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখানোর কোনও প্রয়োজন নেই।”
রাম নবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি বিশাল জনসমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছে। অতীতের হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রশাসন কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর।