প্রয়াগরাজে আইনজীবী-অধ্যাপকের বাড়ি ভাঙচুরে যোগী সরকারকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, ৬ সপ্তাহে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

২০২১ সালে প্রয়াগরাজে এক আইনজীবী, এক অধ্যাপক এবং আরও তিনজনের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তর প্রদেশ সরকার এবং প্রয়াগরাজ ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং উজ্জ্বল ভুয়ানের বেঞ্চ এই ঘটনাকে বেআইনি এবং অসংবেদনশীল বলে উল্লেখ করে রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে। একইসঙ্গে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার স্থায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং উজ্জ্বল ভুয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, “এই ধরনের ঘটনা বিবেককে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।” বেঞ্চ আরও জানায়, আবেদনকারীদের বাসভবনগুলি অত্যন্ত নির্মমতার সঙ্গে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বিচারপতি ওকা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই গোটা বিষয়টিকে আমরা বেআইনি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছি। আর আমরা বলব যে, জমির অধিকার নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করা হবে না।” তিনি আরও নির্দেশ দেন, “প্রতিটা মামলায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। আসলে এটা করার এটিই একমাত্র উপায়, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বদা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা মনে রাখেন।” বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “এই ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। আবেদনকারীদের বাসভবন নির্মম ভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।”
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, “প্রশাসন এবং বিশেষ করে ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে এটা মনে রাখতে হবে যে, আশ্রয়ের অধিকারও ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।” শীর্ষ আদালত আরও উল্লেখ করে, “এই ভাবে ভাঙচুর চালানো আইনত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অসংবেদনশীল মনোভাবকে তুলে ধরেছে।”
এর আগেও প্রয়াগরাজে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তিরস্কার করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এটিকে একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা আখ্যা দিয়েছিল এবং বলেছিল যে এর মাধ্যমে সমাজের কাছে ভুল বার্তা গিয়েছে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান যে, রাজ্য সরকার ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বাড়িগুলি ভেঙে দিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, ওই জমি গ্যাংস্টার-রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদের মালিকানাধীন। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন আতিক আহমেদ। এই ভুল তথ্যের ভিত্তিতেই আইনজীবী জুলফিকর হায়দার, অধ্যাপক আলি আহমেদ এবং অন্যান্যদের বাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁদের বাড়ি ভাঙার বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের এই ভর্ৎসনা এবং ক্ষতিপূরণের নির্দেশ উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।