“ভারত ১০০%, জাপান ৭০০%…”-ট্রাম্পের ঘোষণার আগে TAX-এর হার মনে করাল USA

আগামী ২ এপ্রিল থেকে আমেরিকার পণ্যের উপর বেশি কর আরোপকারী দেশগুলির উপর পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চাপানো হবে, এই ঘোষণা থেকে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পিছু হটছে না, তা ফের স্পষ্ট করে দিল হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নিয়ে কোনও রকম কাটছাঁট করার কথা ভাবছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

ক্যারোলিন লেভিটের মতে, বিশ্বের বহু দেশ আমেরিকায় তৈরি পণ্যের উপর বিপুল পরিমাণে কর চাপায়, যা ‘আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস’ বা ‘অন্যায্য বাণিজ্য প্রথা’। এর আগে একাধিকবার যে সকল দেশ আমেরিকার পণ্যের উপর কর ধার্য করে, তাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক্ষেত্রে বন্ধু দেশ কিংবা শত্রু দেশ, কোনও ভেদাভেদ করেননি তিনি। চিনের বিরুদ্ধে যেমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তেমনই ক্যানাডা, ভারত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছিলেন।

যারা আমেরিকান পণ্যের উপর বেশি পরিমাণে কর চাপায়, সেই সমস্ত দেশের উপর ২ এপ্রিল থেকে পাল্টা কর আরোপ করা হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। ওই দিনটিকে তিনি ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যারোলিন লেভিট সেই দেশগুলির তালিকা প্রকাশ করেছেন, যারা আমেরিকান পণ্যের উপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর ধার্য করে। তার তালিকা অনুযায়ী:

১. ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আমেরিকান দুগ্ধজাত সামগ্রীর উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর চাপায়।
২. ভারত আমেরিকার কৃষিজাত পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কর ধার্য করে।
৩. ক্যানাডা আমেরিকার মাখন ও চিজের উপর ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে।
৪. জাপান আমেরিকার চালের উপর ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত কর ধার্য করে।

ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, এই বিপুল পরিমাণ করের কারণে আমেরিকার সামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানি করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, আমেরিকানদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সকল দেশের উপর পাল্টা কর আরোপ করতে চলেছেন। হোয়াইট হাউসের এই মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে আমেরিকার বাণিজ্যিক নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।