মনমোহনপুর ফেরিঘাটে ভাড়া ৫০% বৃদ্ধি! হতবাক যাত্রীরা, প্রতিবাদের উত্তেজনা

পারের কড়ি নিয়ে ফের একবার উত্তাল হল মনমোহনপুর ফেরিঘাট। মঙ্গলবার সকালে ফেরিঘাটের মালিকদের পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধির একটি তালিকা টাঙ্গানো হয়। যাত্রীরা জানালেন, সাধারণত কয়েক শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি হলে সেটা সহ্য করা সম্ভব হলেও এবার সরাসরি ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা অনেকের কাছে একেবারেই অস্বাভাবিক এবং চরম অসুবিধার সৃষ্টি করেছে।
তিন চাকার সাইকেল পারাপার আগে ছিল ৬ টাকা, যা এখন ৯ টাকায় পৌঁছেছে। পাঁচ টাকার মানুষের ভাড়া ৭ টাকায়, ১০ টাকার গাড়ির ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায় এবং চারচাকা গাড়ির ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে ৩০ টাকায় পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের পকেট আরও চাপের মুখে। খাদ্যসামগ্রী, ঔষধ, বিদ্যুৎ বিল—সব কিছুতেই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যেই ফেরি ভাড়ার এতটা বৃদ্ধি তাদের আরও চিন্তিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে একাধিক নিত্যযাত্রী ও ছোট ব্যবসায়ী ঘাট মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও, তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মালিকপক্ষ পুরোপুরি এই বিষয়ে অবহেলা প্রদর্শন করেছে বলে অভিযোগ।
যাত্রীদের অসন্তোষ বাড়তে থাকায়, কিছু মানুষ ঘাটের সাইনবোর্ড এবং ভাড়া বৃদ্ধির তালিকা ভাঙচুর বা ছিঁড়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নাদনঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে, তারা এই বিষয়টি নিয়ে সরকারি জল পরিবহন দফতর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন।
এখনকার মতো পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, যাত্রীদের মধ্যে এই ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা আশা করছেন, সরকার ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।