ত্রিপুরায় প্রথমবার জি প্লাস ১৪ (জি+১৪) টাইপ বহুতল ভবন নির্মাণ, গুর্খাবস্তিতে মুকুটে এক নতুন গর্বের পালক

ত্রিপুরা রাজ্যে প্রথমবারের মতো জি প্লাস ১৪ (জি+১৪) টাইপ বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে আগরতলার গুর্খাবস্তি এলাকায়। রাজ্যের মুকুটে এই বহুতল ভবন এক নতুন গর্বের পালক হিসেবে যুক্ত হতে চলেছে। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে, এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী সরেজমিনে এই প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে অবগত করেন যে, প্রায় এক একর জমির উপর এই মাল্টিপারপাস বিল্ডিং নির্মিত হচ্ছে। পরিদর্শনকালে তিনি কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ভবনটির নির্মাণে অত্যাধুনিক ক্যালিফোর্নিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভবনটির টেকসইতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। এই বহুতল ভবনটি রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরের ডিরেক্টরেট অফিসগুলিকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসবে, যাতে জনগণ সহজেই সরকারি পরিষেবা পেতে পারে।

অত্যাধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরও বলেন, “এই ভবনটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত হবে এবং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থাকবে।” ভবনটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে থাকবে:

৪টি লিফট,

১৮০ আসনের ডাইনিং হল,

৪০০ আসনের কনফারেন্স হল,

গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা,

সোলার প্যানেল মাধ্যমে বৈদ্যুতিকীকরণ,

এবং বিশেষ ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এছাড়া, এই নির্মাণ প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ১৩৩.৮৯ কোটি টাকা। প্রথমে ২০২৬ সালের এপ্রিল/মে মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হলেও, কিছু পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে এর সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে স্থির করা হয়েছে।

সরকারের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও লক্ষ্য

ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পটি পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার কাজ করছে যাতে এক ছাদের তলায় সরকারি অফিস এবং পরিষেবাগুলি জনগণের কাছে পৌঁছে যায়। এটি শুধু সরকারি কর্মচারী এবং অফিসারদের সুবিধা নয়, বরং আগরতলার মানুষদের জন্যও এটি একটি যুগান্তকারী প্রকল্প।

এটি ত্রিপুরায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নির্মাণ শৈলী এবং জনগণের জন্য উন্নত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।