ঢোলাহাটের বিস্ফোরণের ঘটনার গোটা দায় ‘মমতা,-র ওপর চাপালেন ‘শুভেন্দু! ‘অদক্ষ পুলিশ মন্ত্রী’ বলে খোটা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায় সোমবার রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আট জনে দাঁড়িয়েছে। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটে এই বিস্ফোরণ, যা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দিকে গড়ায়। এই ঘটনায় একদিকে যেমন বণিক পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, তেমনি নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জন সদ্যজাত। মঙ্গলবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে আরও এক মহিলার মৃত্যু হওয়ার খবর সামনে আসে।
এ ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কল্যাণীতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনার ২ মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই ফের আরও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা। ভূপতিনগর, এগরা, বজবজ, কল্যাণী… তালিকাটা দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। রাজ্যের তরফে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও কত দুর্ঘটনা ঘটবে?”
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “বঙ্গের পুলিশ প্রশাসন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। রাজ্যে একই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে জনগণের আস্থা হারাবে পুলিশ। এই ঘটনায় আগামীকাল নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু ঘটনা কি আসলেই এইভাবে থামবে?”
একই সঙ্গে, রাজ্যের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “এটা কি আসলেই কেবল একটি আতশবাজি কারখানা? নাকি আরও একটি তৃণমূল সমর্থিত বোমা তৈরির আস্তানা? পুলিশ কেন নীরব? মমতা সরকারের ‘চটি চাটারা’ কেন সত্য লুকানোর চেষ্টা করছে? তৃণমূল সরকারের মদতে কেন অবৈধ বোমা কারখানাগুলির এত রমরমা?”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে, তুষ্টির রাজনীতি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্যদিকে, বাংলা অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকে ভরে যাচ্ছে, সবই শাসক দলের আশ্রয়ে। এই ‘মৃত্যুর খেলা’ অবশ্যই শেষ হতে হবে! বাংলার সন্ত্রাস ও রক্তপাত নয়, আইনের শাসন ফেরাতে হবে।”
এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়েও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর পেছনে কোনো প্রকার অবৈধ বিস্ফোরক কারখানার হাত রয়েছে। শাসক দলের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই, তবে বিরোধী পক্ষ বারবার এই প্রশ্ন তুলছে, “লোকালয়ের মাঝে বাজি বা বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল, তা কীভাবে সম্ভব?”
এদিকে, পুলিশ প্রশাসন এখনো পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানাতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকলেও, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।
এই বিপর্যয়ের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং অভিযোগের ঝড় উঠেছে, যেখানে একদিকে বিজেপি নেতারা শাসক দলকে দায়ী করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও বিজেপির নীরবতার সমালোচনা করছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যে এই ধরনের অবৈধ বিস্ফোরক কারখানা কীভাবে এতদিন চলতে পারে এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারি কেন ছিল না।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং রাজ্যবাসী প্রশ্ন তুলছে, কেন বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বাংলায়?