ইউক্রেনের সামরিক সাহায্য ঋণ নয়, স্পষ্ট জানালেন জেলেনস্কি

দ্বিতীয়বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপর জোর দিচ্ছেন এবং তার প্রশাসন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে, হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি তিক্ত আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর উপর নির্ভরশীল ইউক্রেন এখন তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা দেখে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আমেরিকা থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তা কোনোভাবেই ঋণ হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং তাই তা ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি দৃঢ়ভাবে বলেন, “ইউক্রেন কখনোই এই সাহায্যকে ঋণ হিসেবে মানবে না। আমরা আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি এবং এই সমর্থন কেবল ইউক্রেনের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা যে সাহায্য করেছে, তা কোনো ঋণ ছিল না এবং সেই অর্থ ফেরত দেওয়ারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”
সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ও ইউক্রেন রাষ্ট্রপতির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকেই জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তিনি তার দেশের খনিজ সম্পদ ব্যবহারের পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চান। তবে সেই সময় ট্রাম্প তাতে রাজি হননি। এমনকি বৈঠকের মাঝপথেই জেলেনস্কি সাংবাদিকদের সামনেই বেরিয়ে এসেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বারবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি মার্কিন করদাতাদের অর্থ অন্য কোনো দেশের জন্য ব্যয় করবেন না, বরং তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে ব্যবহার করবেন। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির স্পষ্ট ঘোষণা যে তিনি মার্কিন সামরিক সাহায্য ফেরত দেবেন না, তা ওয়াশিংটন এবং কিয়েভের মধ্যেকার সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।