বিমানের মধ্যেই বিড়িতে সুখটান!- অবশেষে গ্রেফতার হলেন বাঙালি যাত্রী

বিমানের টয়লেটে ধূমপান করার অভিযোগে এক যাত্রীকে গ্রেফতার করেছে গুজরাত পুলিশ। ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের কলকাতাগামী ফ্লাইটে ওঠার পর এই ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রী অশোক বিশ্বাসের ব্যাগ থেকে বিড়ি ও দেশলাই উদ্ধার হওয়ায়, কীভাবে সিকিউরিটি চেকপোস্টে এগুলি ধরা পড়ল না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সুরাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ৬ই-১৪৪ ফ্লাইটটি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিকেল ৪.৩৫টার বদলে ৫.৩০টায় এয়ারসাইডে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে ১৫এ সিটের যাত্রী অশোক বিশ্বাস বিমানের টয়লেটে ঢুকে বিড়ি খাওয়া শুরু করেন।

বিমানসেবিকা বৈষ্ণবী নিঘোত ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে বিষয়টি কেবিন ক্রুকে জানান। তল্লাশিতে টয়লেট থেকে আধপোড়া বিড়ি ও দেশলাইয়ের বাক্স উদ্ধার করা হয়। অশোকের ব্যাগ থেকেও বিড়ির প্যাকেট পাওয়া যায়। বিমান কর্তৃপক্ষ তাঁকে নামিয়ে দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

আইনি পদক্ষেপ ও শাস্তির বিধান

সুরাত এয়ারপোর্ট পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১২৫ (বিমান আইন লঙ্ঘন) ও ১৯৩৭ সালের ভারতীয় বিমান আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। এই আইন অনুসারে:

  • বিমানে ধূমপান শাস্তিযোগ্য অপরাধ
  • সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা
  • যাত্রীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে আরও কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয়

ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে:

  1. কীভাবে যাত্রীর ব্যাগে বিড়ি ও দেশলাই সিকিউরিটি স্ক্যানিং এড়িয়ে গেল?
  2. বিমানবন্দরের এটিএস (অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি) টিম কেন বিষয়টি ধরতে ব্যর্থ হল?
  3. ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের প্রি-ফ্লাইট চেকলিস্টে কি এই ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয় না?

এ বিষয়ে সুরাত বিমানবন্দরের ডিআইজি রাজেশ গাদিয়া বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া

ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। এই ধরনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়।”

অন্যদিকে,同一 ফ্লাইটের এক যাত্রী অরিন্দম ঘোষ বলেন, “বিমানে ধূমপান অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি শুধু আইন ভাঙা নয়, সকলের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষক কাপিল দেব বলেন, “এটি একটি গুরুতর ল্যাপ্স। বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ ও এক্স-রে স্ক্যানার পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সম্ভবত নতুন ধরনের কন্ট্রাব্যান্ড শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রয়োজন।”