প্রবল ভূমিকম্পে ধ্বংসলীলা দেখল ‘ব্যাঙ্কক, ধুলোয় মিশে গেল আকাশচুম্বী বহুতল ভবনগুলি

শুক্রবার সকালে এক অপ্রত্যাশিত ও প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই ভূমিকম্পের ফলে থাইল্যান্ডের অন্যতম বিশ্ব পর্যটন কেন্দ্র ব্যাঙ্কক আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। শক্তিশালী কম্পনের ফলে শহরের বিভিন্ন আকাশচুম্বী বহুতল ভবনগুলি একের পর এক ধ্বংস হয়ে যেতে শুরু করে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতি
বেলা গড়ানোর সাথে সাথে ভূমিকম্পের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং এক ঝটকায় ব্যাঙ্ককের বিভিন্ন এলাকা থরথর করে কেঁপে উঠে। কম্পনের ফলে শহরের আকাশচুম্বী বিল্ডিংগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং একাধিক ভবন ধসে পড়ে। অসংখ্য সিলিং, কাঁচ এবং দেয়াল ভেঙে পড়ে, যা স্থাপনাগুলিকে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিপদগ্রস্ত মানুষদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, কেউ কেউ কর্মস্থল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে, আবার কেউ আবার ধ্বংসলীলা দেখার জন্য অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
কর্মীদের সুরক্ষা এবং উদ্ধারকাজ
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ককের বিভিন্ন অফিস, শপিং মল এবং অন্যান্য আকাশচুম্বী ভবনের কর্মীরা দৌড়ে বাইরে চলে আসেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।
বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
ব্যাঙ্ককে যখন একের পর এক আকাশচুম্বী ভবন ধসে পড়তে শুরু করে, তখন গোটা পৃথিবী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনার বিস্তারিত জানানো হলে, বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ভূমিকম্পের পর পরবর্তী সময়ে যে দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে, তাও সবাইকে চিন্তিত করে তোলে।
ব্যাঙ্কক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ব্যাঙ্কক প্রশাসন এবং থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ এবং সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন দফতর একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করেছে। ভূমিকম্পের ফলস্বরূপ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পরিস্কার না হলেও, শীঘ্রই ক্ষতিপূরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
এই ভূমিকম্পটি বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আকার নিয়েছে, এবং ব্যাঙ্ককের ভবিষ্যত নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।