“এবার BJP না জিতলে হিন্দু বাঙালিরা বিপদে পড়বে”- বললেন মিঠুন

আগামী বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি জানান, সেসময় বিজেপির খারাপ ফলের জন্য আসলে অন্তর্দ্বন্দ্ব দায়ী ছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হয়ে বাংলার ময়দানে নামেন মিঠুন চক্রবর্তী, যখন তিনি বলেছিলেন, “এবার আমাদের জিততে হবেই।” সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “এবার আমরা জিতবই।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন জানান, দলের নেতাদের যেমন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী-দের আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনি তাঁকেও আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারে, মিঠুনকে প্রশ্ন করা হয়, গতবার প্রচার করার পরেও কেন ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা গেল না? উত্তরে মিঠুন বলেন, “আসলে বোগাস বিষয়টা হল, আমরা তৃণমূলের সঙ্গে লড়িনি। নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে লড়েছি।” এবং এই কথাটি বলার পর হেসে ফেলেন তিনি।
তিনি কার্যত দাবি করেন, বিজেপির খারাপ ফলের জন্য অন্তর্দ্বন্দ্ব দায়ী ছিল। মিঠুনের মতে, দলীয় একতা না থাকার কারণেই বিজেপি ভালো ফলাফল করতে পারেনি।
এদিন মিঠুন চক্রবর্তী আর্জি জানিয়েছেন, ৯ শতাংশ হিন্দু ভোটার, যারা বিজেপি’কে ভোট দেন না, তারা যেন বিজেপিতে ফিরে আসেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এবার যদি বিজেপি না জিততে পারে, তবে হিন্দু বাঙালিরা বিপদে পড়বে।”
তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মিঠুন চক্রবর্তী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে ভোটবাক্সে কোনো প্রভাব পড়বে না। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, “এর আগে অমিত শাহ-এর পাশে বসে মিঠুন বলেছিলেন, ‘এক কোটি সদস্য হলে রাজ্যটা বিজেপির হবে’। কিন্তু সেই লক্ষ্যেও পৌঁছাতে পারেনি বিজেপি। এবারও তাঁর কথায় কেউ ভোট দেবে না।”
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালে বিজেপির ভোট শতাংশ আরও কমবে, এমনটাই তার বিশ্বাস।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র শক্তির পরীক্ষা হবে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, মিঠুনের মন্তব্য বিজেপির হয়ে সুবিধা এনে দিতে পারবে কি না, তাও এখন দেখার বিষয়।