পাহাড়ে আদৌ কি গোর্খাল্যান্ড হবে? কোন দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি? ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকল কেন্দ্র

দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল ২০২৫ সকাল ১১টায় দিল্লির নর্থ ব্লকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই বৈঠকে অংশ নিতে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই বৈঠককে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। ২০০৯ সাল থেকে দার্জিলিং লোকসভা আসনে বিজেপি ক্রমাগত জয়ী হয়ে আসছে। প্রতিবারই তারা পাহাড়ের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জিতলেও, নির্বাচনের পর সেই দাবি পূরণে কোনও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে ক্রমশ হতাশা বাড়ছে। এমনকি বিজেপির সহযোগী দলগুলোর মধ্যেও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (জিএনএলএফ) মতো জোটসঙ্গীরা পরিস্থিতি বুঝে মাঝেমধ্যে বেসুরো গাইছে।

কেন্দ্রের উদ্যোগ

এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্র আলোচনার দরজা খুলে পাহাড়বাসীকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, বৈঠক ডাকা হলেও এর ফলাফল কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে কী ভূমিকা নেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমানে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (জিটিএ) ক্ষমতায় থাকা অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা কী অবস্থান নেবে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।

সাংসদের আশাবাদ

দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘস্থায়ী দাবি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি নিশ্চিত যে এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে এবং আমাদের অঞ্চলের জন্য সুখবর বয়ে আনবে।” তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চিঠি পাঠিয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

পাহাড়ের দাবি ও হতাশা

দীর্ঘদিন ধরে দার্জিলিং পাহাড়ের মানুষ পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া, উন্নয়ন, পরিকাঠামো, এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির বিষয়েও তাদের অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি প্রতিবার নির্বাচনে এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে তা অধরাই থেকে গেছে। এবারের বৈঠককে অনেকে শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নির্বাচনের আগে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার কৌশলও হতে পারে।

রাজ্যের ভূমিকা

রাজ্য সরকার এই বৈঠকে কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে জিটিএ-র মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও, অনেকে মনে করেন এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।

প্রত্যাশা ও সন্দেহ

পাহাড়ের মানুষ এই বৈঠক থেকে স্থায়ী সমাধানের আশা করলেও, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে সন্দেহও কম নয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা এই আলোচনার সাফল্যের চাবিকাঠি হবে। ২ এপ্রিলের বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা সময়ই বলবে। তবে, এটি পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।