TMC-কর্মী গুলিবিদ্ধ , ঘটনার তদন্তে BJP-র অর্জুনের ডাক পড়ল থানায়

উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে বুধবার গভীর রাতে ফের গুলি চলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় সাদ্দাম নামে এক তৃণমূল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত সাদ্দামকে প্রথমে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে তলব করেছে জগদ্দল থানার পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, বুধবার রাতে ভাটপাড়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা মোড় এলাকায় বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন সাদ্দাম নাসের নামে এক যুবক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুনিতা দেবীর ছেলে নমিত সিংয়ের ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভাটপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে ভাটপাড়া পৌরসভার পৌরপিতা অভিমন্যু তিওয়ারি ও পৌর মাতা সুনিতা সিং হাসপাতালে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জগদ্দল থানার পুলিশ।
অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনে গুলি
ঘটনাটি ঘটেছে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের বাড়ির কাছেই। অর্জুন সিং অভিযোগ করেছেন, বুধবার রাতে তাঁর বাড়ির সামনে বোমাবাজি হয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে গুলি তাঁর গায়ে লাগেনি। তিনি বলেন, “আওয়াজ পেয়ে বাইরে বেরিয়েছিলাম। আমার ঘরের সামনে গুলি চললে তো বেরোতেই হবে।” তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকত, তবে এমন ঘটনা ঘটত না। এটা পূর্বপরিকল্পিত। মুসলিম সমাজের বোঝা উচিত, তারা আগুনে ঘি ঢালছে। কেউ তাদের বাঁচাতে আসবে না।”
অর্জুন আরও দাবি করেন, এই ঘটনা রামনবমীর অনুষ্ঠানকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি বলেন, “ভগবান রামকে কে বানচাল করবে? আমি চুপ করে বসে থাকার পাত্র নই।”
পালটা অভিযোগ ও পুলিশের তলব
এদিকে, তৃণমূলের তরফে পালটা অভিযোগ উঠেছে যে গুলি চালিয়েছেন অর্জুন সিং নিজে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই জগদ্দল থানায় অর্জুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অর্জুনকে থানায় হাজির হতে তলব করে। তবে অর্জুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি থানায় যাবেন না। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি কি ছিঁচকে চোর বা পকেটমার যে পুলিশ ডাকলেই থানায় যাব? আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তিনটে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। পুলিশ দেখুক কে গুলি চালিয়েছে। পুলিশকর্মীরা তো সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল।”
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনা জগদ্দলের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে পালটা অভিযোগের মধ্যে সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।