OMG! ৪ সন্তানকে গলা কেটে খুন করে ‘সুইসাইড’ করলেন বাবাও, মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক আর আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। রাজীব নামে এক ব্যক্তি তাঁর চার নিষ্পাপ সন্তানকে গলা কেটে খুন করার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাহানপুরের রোজা থানা এলাকার মানপুর চাচারি গ্রামে। রাজীব তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান—তিন মেয়ে ও এক ছেলে—নিয়ে এই গ্রামে বসবাস করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতের কোনও এক সময়ে রাজীব তাঁর ১৩ বছরের মেয়ে স্মৃতি, ৯ বছরের মেয়ে কীর্তি, ৭ বছরের মেয়ে প্রগতি এবং ৫ বছরের ছেলে ঋষভকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
জানা গেছে, ঘটনার সময় রাজীবের স্ত্রী তাঁর বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাজীবের বাবা বাড়ির বাইরে ঘুমাচ্ছিলেন। সকালে তিনি দরজা খোলার চেষ্টা করলে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক চেষ্টার পর ঘরে ঢুকে তিনি চার নাতি-নাতনির রক্তাক্ত মৃতদেহ ও রাজীবের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে তিনি স্থানীয়দের ডেকে আনেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশের তৎপরতা
খবর পাওয়ার পরই ফরেন্সিক দল সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, এবং পুলিশ জানিয়েছে যে পারিবারিক কলহই এই ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে, ঘটনার পেছনে আরও কোনও গভীর কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলাকায় আতঙ্ক
এই নৃশংস ঘটনার পর মানপুর চাচারি গ্রামে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। এক গ্রামবাসী বলেন, “রাজীবকে আমরা শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতাম। এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনাও করিনি।”
তদন্ত চলছে
পুলিশ এখন রাজীবের পারিবারিক জীবন, স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্যান্য দিক নিয়ে তদন্ত করছে। রাজীবের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। এই ঘটনা শুধু শাহজাহানপুর নয়, গোটা উত্তরপ্রদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা পারিবারিক সমস্যার ভয়াবহ পরিণতির একটি চরম উদাহরণ হয়ে থাকবে। পুলিশ তদন্তের পর এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।