বাংলায় ফের আক্রান্ত পুলিশ, যুবকের দেহ উদ্ধারে গিয়ে আহত হলেন ডিসিপি

রাজ্যে ফের পুলিশ আক্রমণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ বার ঘটনাস্থল দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি গ্রাম। বৃহস্পতিবার এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাথর ছোড়া হয়, যা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে। এতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তাসহ একাধিক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
কুমারডিহি গ্রামের এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ উদ্ধারের সময় স্থানীয়দের একাংশের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। এতে ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা গুরুতরভাবে আহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় অন্তত পাঁচ থেকে সাত জন পুলিশকর্মীও আঘাত পেয়েছেন।
পুলিশের পাল্টা ব্যবস্থা
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ দেহ উদ্ধারের সময় প্রাথমিকভাবে কোনো রকম জিজ্ঞাসাবাদ না করেই দেহ নামানোর চেষ্টা করায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। এ সময় কয়েকজন গ্রামবাসীও আঘাত পান বলে জানা গেছে।
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজন। আমরা তদন্ত করে দেখছি কেন এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল। যারা পুলিশকে আক্রমণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, যুবকের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাঁরা স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন জরুরি।