রাজ্য সরকারের দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ও রেড পান্ডা প্রজনন কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা

রাজ্য সরকার দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ও রেড পান্ডা প্রজনন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বুধবার কার্শিয়াং বনবিভাগ ও মহানন্দা অভয়ারণ্য পরিদর্শন শেষে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশি পর্যটকদের জন্য দার্জিলিং চিড়িয়াখানাকে সাজানো হবে এবং চিড়িয়াখানার বায়ো ব্যাংকিং ও গবেষণাগারে আরও গবেষণার সুযোগ দেওয়া হবে।

বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা পাঁচদিনের পাহাড় সফরের অংশ হিসেবে সান্দাকফু, সিঙ্গালিলা অভয়ারণ্য, তোপকেদাড়া রেড পান্ডা প্রজনন কেন্দ্র, দার্জিলিং চিড়িয়াখানা এবং মহানন্দা অভয়ারণ্য পরিদর্শন করেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম কোনও বনমন্ত্রীর সিঙ্গালিলা অভয়ারণ্য এবং সান্দাকফু পরিদর্শন।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানার উন্নয়ন:
রাজ্যের বনমন্ত্রী জানান, দার্জিলিং চিড়িয়াখানার অ্যাকোয়ারিয়াম মেরামতের জন্য ১০ লক্ষ টাকা, মাল্টিপারপাস হলের মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১১ লক্ষ টাকা এবং সিঙ্গালিলা অভয়ারণ্যে রেড পান্ডা প্রজনন কেন্দ্রের ফেন্সিং বৃদ্ধি ও মেরামতের জন্য ১৪ লক্ষ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, বায়ো ব্যাংকিং, গবেষণাগার এবং মিউজিয়ামে বিদেশি সংস্থাগুলিকে গবেষণার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার মন্তব্য:
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, “আমার পাহাড়ের বনবিভাগ, প্রজনন কেন্দ্র ও অভয়ারণ্য পরিদর্শনের কারণ হল সেইসব এলাকায় বনকর্মীরা যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন, তা সরাসরি গিয়ে খতিয়ে দেখা। আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলে কিছু প্রস্তাব পেয়েছি, যা খতিয়ে দেখা হবে। বনকর্মী ও আধিকারিকরা দারুণ কাজ করছেন, আর মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিয়েছেন।”

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, “দার্জিলিং চিড়িয়াখানা গোটা বিশ্বে নজির স্থাপন করেছে এবং আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। এটি এক গর্বের বিষয়, এবং আমি মুখ্যমন্ত্রী দেখানো পথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

পরিকল্পনার লক্ষ্য:
এই পরিকল্পনাগুলির লক্ষ্য পাহাড়ি অঞ্চলগুলির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, পাশাপাশি বিদেশি গবেষক ও সংস্থাগুলিকে গবেষণার সুযোগ প্রদান করা। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগগুলি দার্জিলিং অঞ্চলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া, বনমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, তারা নিয়মিতভাবে পাহাড়ি অঞ্চলগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন যাতে বনকর্মীরা আরও সুষ্ঠু পরিবেশে কাজ করতে পারেন।