জোকা, বেহালা, ঠাকুরপুকুরে ১৩টি খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত”, কলকাতা পুরনিগমের নতুন উদ্যোগ

বর্ষার সময় জলজট ও মশার উপদ্রব কমাতে কলকাতা পুরনিগম এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এবার জোকা, বেহালা, ঠাকুরপুকুরসহ কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ১৩টি পুরনো খাল সংস্কারের কাজ শুরু হবে। এই কাজটি আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এবং এটি কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে।
কলকাতা কর্পোরেশনের নিকাশি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পরিষদের সদস্য, তারক সিং জানিয়েছেন, “আগামী মাসের শুরুতেই এই কাজ চালু হবে। বেশ কিছু জায়গায় খালগুলি জবরদখল হয়ে গেছে, কোথাও আবার বুজে গিয়েছে। আমরা এগুলি সরিয়ে খালের পুরনো চিত্র ফিরিয়ে আনব।” তিনি আরও জানান, সংস্কারের মাধ্যমে এসব খালের মাধ্যমে বৃষ্টির জল দ্রুত প্রবাহিত হবে, ফলে জোকা, ঠাকুরপুকুরসহ আশপাশের এলাকা আর জলের নিচে চলে যাবে না।
এছাড়া, পুরনিগমের সূত্রে জানা গেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলির মধ্যে জমে থাকা জল এবং অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে, মশার উপদ্রবও বেড়ে যায়, যা স্থানীয়দের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের বরাদ্দে ১৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে, যা খাল সংস্কার এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ব্যবহার করা হবে।
বৈঠককালে তারক সিং আরও জানিয়েছেন, “এই সংস্কারের কাজের মধ্যে ৩-৪টি বড় খালের সঙ্গে সংযুক্ত ছোট খালগুলির সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।” এর মধ্যে রয়েছে চরিয়াল, রানিয়া, জুলপিয়া, মনি, সুতি, রেনিয়া, বাবুর বাগান, বকরাহাট রোড খাল, এবং ২২ বিঘা খাল। এসব খালের সংস্কার হতে চলেছে সেচ দফতরের সহায়তায় এবং এতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, যা বর্ষাকালে জলজট কমাবে।
কলকাতা পুরনিগম এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, বিশেষ করে বর্ষায় সৃষ্ট জল জমা এবং অন্যান্য সমস্যাগুলির সমাধান করতে। এই কাজ সফলভাবে শেষ হলে, স্থানীয়রা আরও উন্নত এবং সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে।