‘বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই….’! খোলাখুলি ভর্ৎসনা BNP নেতার

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ‘খাটো করতে চাইছেন’ এমন ব্যক্তিদের খোলাখুলি ভর্ৎসনা করলেন বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ (২৬ মার্চ, ২০২৫) বাংলাদেশের ‘মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এই সময়েই তিনি মন্তব্য করেন যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা জুলাই-অগস্টে ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে তাড়িয়ে নতুন করে স্বাধীনতা পেয়েছি। অনেকে একে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বললেও, আজকের এই স্বাধীনতা দিবস প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে কিছু নেই। যারা এমনটা বলেন, তারা আজকের স্বাধীনতা দিবসকে খাটো করতে চান।”

তিনি আরও বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সেই কারণেই তারা এই দিনটিকে খাটো করতে চান। আমি বলব, তারা যেন এখানেই বিরত থাকেন এবং এই স্বাধীনতা দিবসের প্রতি সম্মান জানায়।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে কিছু প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে কট্টরপন্থীদের এই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয়েই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকার করতে পারবে না। এই কারণে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বর্তমান বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে বলেন, “স্বার্থের সংঘাত আছে, কিন্তু কোনো অনৈক্য নেই। প্রতিটি দলের নিজস্ব আদর্শ রয়েছে। যদি জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন পড়ে, দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের প্রয়োজন হয়, আমরা সবাই এক হয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, “এখন দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে আলাদা কথা বলছি, কিন্তু যখন প্রয়োজন হবে, তখন বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক হয়ে যাবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ আবার পেয়েছি।”

নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা আব্বাস জানান, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আমরা সেখানেই বিশ্বাস রাখতে চাই। যদি কোনো পরিবর্তন হয়, সময় এলে দেখা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই প্রতিপক্ষ। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে নির্বাচন হবে।”

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে ডিসেম্বর থেকে আগামী মার্চ-জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন। কিন্তু মির্জা আব্বাস এদিন বলেন, “আমরা ডিসেম্বরে নির্বাচন না হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস করতে চাই না।”