মুসলিম-দরবারে পৌঁছলো BJP, ঈদের আগে ‘সওগাত-এ-মোদী’-উপহার পাঠানো হলো ৩২ লক্ষ পরিবারকে

ইদের আগে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মুসলিম পরিবারগুলির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ‘সৌগত-ই-মোদী’ নামে এই প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩২ লক্ষ দরিদ্র মুসলিম পরিবারের কাছে ইদ কিট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দলটি। মঙ্গলবার দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নেতৃত্বে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই পদক্ষেপকে আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জনের কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কিটে কী থাকছে?
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জাতীয় সভাপতি জামাল সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রতিটি ‘সৌগত-ই-মোদী’ কিটে থাকবে:
- খাবার সামগ্রী: সেমাই, খেজুর, শুকনো ফল, চিনি
- পোশাক: মহিলাদের জন্য শাড়ি বা স্যুটের কাপড় এবং পুরুষদের জন্য কুর্তা-পায়জামা
প্রতিটি কিটের আনুমানিক মূল্য ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এই কিটগুলি সুবিধাভোগী পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিজেপি ৩২,০০০ সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মীকে নিয়োজিত করেছে, যারা দেশের ৩২,০০০ মসজিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
বিহার নির্বাচনের লক্ষ্য
বিহারে এই বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে মিলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ ১২৫টি আসন জিতেছিল, যেখানে কংগ্রেস-আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন পেয়েছিল ১১০টি আসন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার জন্য উৎসব’ বার্তা
জামাল সিদ্দিকী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবসময় বলেন, তিনি ১৪০ কোটি ভারতীয়দের অভিভাবক। তিনি ক্রিসমাস, ইস্টার, বৈশাখীতে শুভেচ্ছা জানান এবং নিজামুদ্দিন দরগা ও আজমির শরীফে চাদর পাঠান। তাই এবার ইদে দরিদ্র মুসলিম পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, প্রতিটি কর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘ইদ মোবারক’ শুভেচ্ছা জানিয়ে এই কিটগুলি বিতরণ করবেন।
ইদের বাইরেও চলবে কর্মসূচি
‘সৌগত-ই-মোদী’ উদ্যোগ শুধু ইদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিজেপি জানিয়েছে, আগামী দিনে গুড ফ্রাইডে, ইস্টার এবং নওরোজের মতো উৎসবেও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দরিদ্রদের মধ্যে একইভাবে বিশেষ কিট বিতরণ করা হবে। জামাল সিদ্দিকী বলেন, “এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ দর্শনের একটি অংশ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিহার নির্বাচনের প্রাক্কালে এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৭.৭ শতাংশ (২০২৩ সালের জাতিগত জরিপ অনুযায়ী), এবং এই ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারলে বিজেপি ও এনডিএ-র জন্য বড় সুবিধা হতে পারে। তবে বিরোধী দলগুলি এটিকে ‘ভোটের জন্য তোষণ’ বলে সমালোচনা করছে। আগামী দিনে এই কর্মসূচির রাজনৈতিক ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে সবার নজর রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে দরিদ্রদের সাহায্য করার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে।