বাইক চালকদের জন্য সুখবর! আরো মসৃন হবে কলকাতার রাস্তা, নতুন উদ্যোগ সরকারের

বর্ষা এখনও আসেনি, তবে গরমের শুরুতেই কলকাতার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষার সময়ে রাস্তায় জল জমে, গর্ত তৈরি হয় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এবার সেই সমস্যা কমাতে শহরের রাস্তাগুলিকে আরও মসৃণ ও নিরাপদ করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে দুই চাকার যানবাহন— বাইক ও স্কুটার চালকদের জন্য সুবিধা হবে এই প্রকল্পের ফলে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি তিন বছর আগে শুরু হয়েছিল, এবং এবার তার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ইতিমধ্যেই ভূপেন বোস রোড, বেলেঘাটা মেইন রোড, এজেসি বোস রোড, থিয়েটার রোড, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, পিকনিক গার্ডেন রোড, বেলভেদর রোড, হেস্টিংস পার্ক রোড, আলিপুর রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা মসৃণ করা হয়েছে।
এবার রাসবিহারি অ্যাভিনিউ, শরৎ বোস রোড, গুরুসদয় দত্ত রোড, গড়িয়াহাট রোড, বিবেকানন্দ রোড, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, বেনটিঙ্ক স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিট, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, বেকার রোড ও রায় বাহাদুর রোড (বেহালা)-সহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু হচ্ছে।
বর্তমানে রাস্তা মসৃণ করার জন্য চারটি বিশেষ মেশিন রয়েছে। এবার আরও পাঁচটি নতুন মেশিন যুক্ত করা হবে, যার ফলে কাজের গতি আরও বাড়বে। এর ফলে বাইক, স্কুটার চালকদের জন্য রাস্তায় ঝাঁকুনি কমবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।
এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মধ্যেই শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষত বাইক ও স্কুটার চালকদের অভিযোগ ছিল যে, পিচ দেওয়ার পর কিছু কিছু জায়গায় ঢেউ খেলানো অংশ তৈরি হয়, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
২০২২ সালে এই সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জলের পাইপলাইন বা রাস্তার অন্যান্য কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি হয়, যার ফলে রাস্তা সমান থাকে না।
এবার সেই সমস্যার সমাধান করতেই রাস্তাগুলিকে “মাখনের মতো” মসৃণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় রাস্তার উঁচু-নিচু জায়গাগুলি ঠিকমতো বোঝা যায় না, যা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই দ্রুততার সঙ্গে এই সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হচ্ছে।
শহরবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এবার বর্ষার আগে কলকাতার রাস্তায় আরও মসৃণ অভিজ্ঞতা পেতে চলেছেন বাইক, স্কুটার চালকরা সহ সাধারণ পথচারীরাও।