দত্তক পুত্র বা কন্যা নয়, পরিচয় হবে শুধু ‘সন্তান’, বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার!

পুত্র বা কন্যা নয়, এবার থেকে আইনি নথিতে পরিচয় হবে শুধুমাত্র সন্তান। দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করে লিঙ্গ নিরপেক্ষতা আনল ছত্তীসগঢ় সরকার। শতাব্দী প্রাচীন দত্তক আইনে সংশোধন এনে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা যায়।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আইনি নথিপত্রে ‘দত্তক পুত্র’ বা ‘দত্তক কন্যা’ শব্দবন্ধ আর থাকবে না। পরিবর্তে শুধুই ‘দত্তক সন্তান’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে।
এই বিষয়ে ছত্তীসগঢ়ের অর্থমন্ত্রী ওপি চৌধুরী জানান, “১৯০৮ সালের দত্তক আইনে শুধুমাত্র ‘পুত্র’ শব্দের উল্লেখ ছিল, যা সেই সময়ের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আমরা আইন সংশোধন করে ‘দত্তক সন্তান’ শব্দটি সংযোজন করেছি, যাতে লিঙ্গ নিরপেক্ষতা ও মহিলাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়।”
সমাজকর্মী ভি পোলাম্মা এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, “২০০৫ সালে হিন্দু দত্তক ও রক্ষণাবেক্ষণ আইনের অধীনে মেয়েদের সম্পত্তিতে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছিল। দত্তক আইনেও সেই সমতা থাকা জরুরি ছিল।”
আরেক সমাজকর্মী বিভা সিং মনে করেন, “দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে এতদিন যে লিঙ্গবৈষম্য ছিল, তা অবশেষে দূর হলো। এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।”
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২4 সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ৪১৭টি শিশু দত্তক নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৬ জন কন্যাসন্তান। কিন্তু এতদিন দত্তক গ্রহণের আইনি নথিতে শুধুমাত্র ‘দত্তক পুত্র’ শব্দটি ব্যবহৃত হতো, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বহু মানুষ। সেই কারণেই দত্তক আইনে সংশোধন এনে নতুন এই সিদ্ধান্ত নিল ছত্তীসগঢ় সরকার।
এই নতুন আইন দত্তক সন্তানদের লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় থেকে মুক্তি দেবে এবং সমাজে লিঙ্গ সমতার বার্তা দেবে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।